Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

ইরানে ট্রাম্পের হামলা যে ভয়ের জন্ম দিচ্ছে

জুলিয়ান বোরগার

জুলিয়ান বোরগার

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ১৩
ইরানে ট্রাম্পের হামলা যে ভয়ের জন্ম দিচ্ছে

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ যুগের প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়েছে–ইসরায়েলের সহযোগিতায় শাসন পরিবর্তনের এক উসকানিবিহীন প্রচেষ্টা, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালেই এটি শুরু হয়েছে; এবং কংগ্রেস বা আমেরিকান জনগণের সঙ্গে ন্যূনতম পরামর্শের মাধ্যমেও নয়।

Advertisement

প্রথম বোমা পড়ার পর তার সই করা লাল বেসবল ক্যাপ পরে দেওয়া ট্রাম্পের রেকর্ডকৃত আট মিনিটের ভাষণ স্পষ্ট করে দেয় যে, এটি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে সীমিত হামলা নয়। তিনি সতর্ক করেন, যদি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আত্মসমর্পণ না করে, তবে তাদের হত্যা করা হবে এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী ও নৌবাহিনী গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর পথ খুলে যাবে ইরানি বিরোধী গোষ্ঠী ও দেশের জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য, যাতে তারা উঠে দাঁড়িয়ে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সকল জনগণের–পার্সি, কুর্দি, আজেরি, বালুচ ও আহভাজিদের জন্য সময় এসেছে অত্যাচারের বোঝা ঝেড়ে ফেলে একটি স্বাধীন ও শান্তিপ্রত্যাশী ইরান প্রতিষ্ঠা করার।”

এই বার্তার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সমন্বয় করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশ যুদ্ধে যোগ দিয়েছে “ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই যৌথ হামলার সর্বোচ্চ লক্ষ্যগুলো সন্দেহ তৈরি করে যে, আগের সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার কোনো বাস্তব সফলতার সম্ভাবনা আদৌ ছিল কি না; যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাব্য সীমা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফাসহ সেই আলোচনাগুলো চলছিল ট্রাম্পের কথিত ‘সুন্দর আর্মাডা’ মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো হওয়ার ছায়ায়। এটা ২০০৩ সালের দুর্ভাগ্যজনক ইরাক আক্রমণের পর অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ। এবং এখন মনে হচ্ছে, ইরানের পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া এই সমবেত আমেরিকান শক্তিকে থামানো সম্ভব নয়।

ইরান-আমেরিকা: ৭৩ বছর ধরে চলছে সংঘাতiran america

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরাক যুদ্ধের মূর্খতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি দুবার বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন এবং বাস্তব ভিত্তি ‘দুর্বল’ দাবি করে আটটি যুদ্ধ শেষ করার কৃতিত্বের ভিত্তিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে জোরালো লবিং করেছেন।

যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে তিনি তার বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী বৈঠক আয়োজন করেন, যা নাকি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বের সংঘাত সমাধান করবে বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই বৈঠকে ২৭টি রাষ্ট্রের নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে আসেন, যাদের বেশির ভাগই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধি। তারা ট্রাম্পকে ‘শান্তিদূত’ হিসেবে প্রশংসা করেন।

এই নেতারা সেই বৈঠকে শুনেছেন টনি ব্লেয়ার (২৩ বছর আগে ইরাক বিপর্যয়ের জীবন্ত নায়ক) ঘোষণা করছেন যে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দর্শন “গাজা, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং বৃহত্তর বিশ্বের জন্য সেরা একমাত্র আশা।”

তবে ততদিনে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত মিত্রদের অধিকাংশই ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে সংশয়ী হয়ে ওঠে এবং দূরত্ব তৈরি করতে থাকে। নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বোর্ড অব পিসকে গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের একমাত্র পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বহু আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, সেটি ছিল ‘প্রলোভন ও দৃষ্টি সরানো’-এর কৌশল। জাতিসংঘ ভেবেছিল–তারা এক জিনিস গ্রহণ করছে, কিন্তু তাদের দেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। এটি ছিল নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংস্থা, যেখানে ট্রাম্প থাকবেন নিয়ন্ত্রণে।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

ইরানের ওপর হামলা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য, তাৎক্ষণিক ইরানি হুমকি ছিল না। ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প সাধারণ বক্তব্য দেন। তিনি তেহরানের নেতৃত্বকে “অত্যন্ত নিষ্ঠুর, কঠোর ও ভয়ংকর মানুষদের একটি গোষ্ঠী” বলে আখ্যা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের বৈরিতার কথা উল্লেখ করেন।

গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সম্ভবত এখনকার মতো এত কম হুমকি ইরানের দিক থেকে আসেনি। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে। দশকের পর দশক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে রাস্তায় মানুষ গণবিক্ষোভে নেমেছে।

কিন্তু বোর্ড অব পিসে ট্রাম্পের নিজেকে ন্যায্যতা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সেখানে ট্রাম্পের নিজের তৈরি করা নিয়ম ছাড়া আর কোনো নিয়ম নেই। ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, গঠিত বোর্ডটি মূলত সংঘাত সমাধানের ফোরাম নয়। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থের বাহন। যারা বোর্ডের সদস্য হিসেবে সই করেছে, তারা এখন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা তাদের অনেকেই চায় না।

ইরানকে কেন ভয় পায় ইসরায়েল?iran 2

ট্রাম্প কীভাবে শান্তির প্রেসিডেন্ট থেকে যুদ্ধের প্রেসিডেন্টে রূপান্তরিত হলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ইঙ্গিত রয়েছে। দেশে তিনি প্রতিবন্ধকতার মুখে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার জনপ্রিয়তা ক্রমহ্রাসমান, এবং তার প্রিয় পররাষ্ট্রনৈতিক হাতিয়ার ‘শুল্ক’ ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সম্প্রতি তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বলেন, আদালতের এই পরাজয় ইরানে হামলার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। রস ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, “আমি মনে করি না তিনি এই পরাজয় মেনে নিয়ে ইরান বিষয়ে পিছিয়ে যেতে পারেন।”

এদিকে যৌন অপরাধী ধনকুবের জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের শিশু পাচার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহের মেঘ বিচার বিভাগের তথ্যপ্রকাশ সীমিত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কাটেনি।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে ডেমোক্রেটিক সিনেটর চাক শুমার বলেন, “আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন, কারণ তিনি এমন পরিস্থিতিতে প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েন। ইরানে তিনি কী করতে পারেন, কে জানে?”

ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের পেছনে ছোটা ছেড়ে দিয়েছেন বলে মনে হয়। গত মাসে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে (যার পুরস্কার প্রদানে কোনো ভূমিকা নেই) তিনি সতর্ক করেন যে, তিনি আর “শুধু শান্তি নিয়ে ভাবার বাধ্যবাধকতা” অনুভব করেন না।

এবারের ‘সুযোগ’ হাতছাড়া করতে চায় না আমেরিকা-ইসরায়েলiran israel

রিয়েলিটি শো চরিত্র হিসেবে সম্পত্তি বাড়ানোয় বেশি সফল ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধ শান্তির চেয়ে ভালো বিভ্রান্তি হিসেবে দেখা দিতে শুরু করে। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সফল অভিযানে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই সরিয়ে নেওয়া তাকে রোমাঞ্চিত করেছিল।

ট্রাম্প স্পষ্টতই ইরানে নাটকীয় সাফল্যের ওপর বাজি ধরেছেন, যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়ে পরবর্তী সময়ে দেশকে তার পক্ষে আনবে। রেকর্ডকৃত রাতের ভাষণের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেস বা জাতির কাছে বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি উপস্থাপনের সত্যিকারের কোনো চেষ্টা করেনি। এমন সময়ে তিনি এ হামলা করলেন, যখন জরিপ বলছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ভোটারের সমর্থন আছে।

বাহরাইনে হামলা। ছবি: রয়টার্স
বাহরাইনে হামলা। ছবি: রয়টার্স

পূর্ববর্তী সংঘাতগুলোর আগে পেন্টাগনে নিয়মিত অন-ক্যামেরা ব্রিফিং ছিল ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সম্প্রতি নতুন নামধারী ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ ডিসেম্বরের পর থেকে এমন কোনো ব্রিফিং করেনি। মঙ্গলবারের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আশা করা হয়েছিল–ট্রাম্প হয়তো এই উপলক্ষে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন। কিন্তু এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণের মধ্যে তিনি ইরান নিয়ে কথা বলেন মাত্র তিন মিনিট।

মার্কিন কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে যুদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এ ক্ষেত্রে তাকে প্রায় পুরোপুরি পাশ কাটানো হয়েছে। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উভয় দলের আটজন কংগ্রেস নেতাকে গোপন তথ্য দেন। কিন্তু ডেমোক্রেটিক সিনেটররা বেরিয়ে এসে বলেন, এখন কেন যুদ্ধ জরুরি, তার ভালো কোনো কারণ তারা পাননি।

ইরানে ট্রাম্পের হামলাকে ‘বেআইনি’ বলছেন আমেরিকারই এক সিনেটরcapitol building

২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল অস্তিত্বহীন গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে। ২৩ বছর পর ইরানে নতুন সংঘাতের পথ মূলত অসংলগ্নতা বা নীরবতায় আচ্ছাদিত। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো দুর্বল হওয়ার পর শাসন পরিবর্তনের এজেন্ট হবেন ইরানি জনগণ। স্থল আক্রমণ চালানোর কোনো অভিপ্রায় তার নেই। তার রেকর্ডকৃত ভাষণে তিনি জনগণকে কিছু মার্কিন হতাহতের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তবে এমন স্পষ্ট পছন্দের যুদ্ধে ভোটাররা, এমনকি তার নিজ সমর্থকরাও–যুদ্ধে কত মৃত্যু মেনে নেবেন, তা অস্পষ্ট।

নভেম্বরের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের সম্ভাবনার মুখে প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় জুয়া খেলেছেন।

ইতিহাস বলছে, কেবল আকাশপথে বোমাবর্ষণ করে প্রোথিত শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা অত্যন্ত কঠিন। এবং তেহরানের সরকারকে যখন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা অস্তিত্বের সংগ্রামে রয়েছে, তখন তাদের হাতে থাকা সব উপায়ে আক্রমণকারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতি করার চেষ্টা করাটা প্রত্যাশিত।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভাইজ বলেন, “ইরানিরা এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, তাদের সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তা আরও আগ্রাসনকে ডেকে আনছে।” তিনি যোগ করেন, ইরানের শত্রুদের ক্ষতিসাধনের সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত হয়নি।

আলি ভাইজ বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধে ইরানিরা বহু বছর ধরে বিকশিত কোনো সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেনি।” এর মধ্যে কী আছে? ভাইজ জানাচ্ছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম–স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌসম্পদ, ড্রোন, পানির নিচের ড্রোন, জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।”

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। হুতিরা ইরানের প্রতিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। কারণ, তেহরানে শাসন বদলে গেলে তারা তাদের পৃষ্ঠপোষক হারাবে। গত বছর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে দুর্বল হলেও হিজবুল্লাহ কিছু শক্তি পুনর্গঠন করেছে এবং একই কারণে তারাও যোগ দিতে পারে।

ভাইজ বলেন, “ওয়াশিংটনে, পেন্টাগনে এবং সব থিঙ্কট্যাঙ্কে বছরের পর বছর যুদ্ধের মহড়ায়, ব্যতিক্রম ছাড়া এক বা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবে যেত।” তিনি যোগ করেন, “অবশ্যই, এটি ট্রাম্পকে বিধ্বংসী প্রতিশোধ নিতে বাধ্য করবে। কিন্তু তখন তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধ শুরু করে ফেলবেন। এটিকে ট্রাম্প কোনোভাবেই বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না। তার প্রেসিডেন্সি সম্পূর্ণভাবে এতে আচ্ছন্ন হয়ে যাবে।”

লেখক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের জেরুজালেম সংবাদদাতা

(লেখাটি দ্য গার্ডিয়ানের সৌজন্যে প্রকাশিত)

বিষয়: জ্বালানিআমেরিকাইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সৌদিতে বিমানবন্দরে হামলা: ঢাকা থেকে ১০ ফ্লাইট বাতিল

  • ২

    রাজশাহীতে নিজ বাড়ি থেকে বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

  • ৩

    ‘রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার চক্রান্ত নতুন কোনো ঘটনা নয়’

  • ৪

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

  • ৫

    জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ নাটোর থেকে উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই

  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।