পর্ব–১
সহিদুল আলম স্বপন

ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো–গণতন্ত্র খুব কম ক্ষেত্রেই একদিনে ধ্বংস হয়। অধিকাংশ সময় এটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নির্বাচন থাকে, সংসদও থাকে, আদালতও কাজ করে, সংবাদমাধ্যমও পুরোপুরি বন্ধ হয় না; কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়, রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হতে থাকে এবং ভিন্নমতকে ধীরে ধীরে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘জনবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই ধীর যে, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না, তারা একটি সুস্থ গণতন্ত্র থেকে একটি নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ভারতের সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন সেই বৃহত্তর প্রশ্নটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম দৃষ্টিতে এটি একটি শিক্ষাব্যবস্থার সংকট। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ যত এগিয়েছে, ততই এটি রাষ্ট্র, জবাবদিহি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সংহতি, সংসদে অচলাবস্থা, সরকারের সঙ্গে সংলাপের টানাপোড়েন এবং রাজধানী দিল্লিতে টানা বিক্ষোভ সব মিলিয়ে এটি এখন আর শুধু একটি পরীক্ষা বা একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা যখন ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, তখন মানুষ কেবল সরকারের বিরোধিতা করে না; তারা পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্ন করতে শুরু করে। ঠিক এ কারণেই ইতিহাসে বহু বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট কোনো সামাজিক বা প্রশাসনিক সংকট থেকে। কখনো রুটির দাম, কখনো করনীতি, কখনো ছাত্র আন্দোলন, কখনো শ্রমিক অসন্তোষ–এসবই পরে রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আজকের ভারতেও প্রশ্নটি কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁসের নয়। প্রশ্নটি হলো যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা কি সত্যিই সুরক্ষিত? রাষ্ট্র কি শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে? সরকারের সমালোচনা কি গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু ভারতের জন্য নয়; সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কোথায়?
অনেকেই মনে করেন নির্বাচনই গণতন্ত্রের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো–নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অংশ মাত্র।
একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ রয়েছে–
এই পাঁচটির মধ্যে একটি দুর্বল হলে গণতন্ত্র টিকে থাকে; কিন্তু একাধিক স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়লে গণতন্ত্রের কাঠামো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে।
এ কারণেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আজ ‘Electoral Democracy’ এবং ‘Liberal Democracy’-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। অনেক দেশে নির্বাচন হয়, কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা ক্রমশ কেন্দ্রিভূত হয়। বিরোধী দল নির্বাচন করে, কিন্তু সমান রাজনৈতিক সুযোগ পায় না। সংবাদমাধ্যম থাকে, কিন্তু সেলফ সেন্সরশিপের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। আইন থাকে, কিন্তু তার প্রয়োগ হয় পছন্দমাফিক।
এই বাস্তবতাকে অনেক গবেষক ‘Democratic Backsliding’ বা গণতান্ত্রিক পশ্চাৎগমন বলে অভিহিত করেছেন।
ফ্যাসিবাদ: একটি শব্দ, নাকি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া?
বর্তমান বিশ্বে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি রাজনৈতিক বিতর্কে খুব সহজেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে ফ্যাসিবাদ একটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ।
ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি এবং পরে জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলার যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল–
অতএব, কোনো সরকার জনপ্রিয় হলেই তাকে ফ্যাসিবাদী বলা যায় না। আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই একটি রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ উদার গণতন্ত্রও বলা যায় না। বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
বিশ্বরাজনীতির নতুন বাস্তবতা
গত এক দশকে বিশ্বের বহু দেশে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হাঙ্গেরিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, তুরস্কে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সম্পর্কের পরিবর্তন, ব্রাজিলে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক–সবই দেখিয়েছে যে গণতন্ত্রের সংকট আজ শুধু উন্নয়নশীল বিশ্বের নয়; এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা।
এই নতুন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ সবসময় সামরিক অভ্যুত্থান নয়; অনেক সময় গণতন্ত্রের ভেতর থেকেই এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং ব্যক্তিনির্ভর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি এই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়।

ভারতের সামনে যে বড় প্রশ্ন
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন তুলছেন। সরকার বলছে, সংলাপের পথ খোলা রয়েছে এবং সংকটের রাজনৈতিক ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। একই সময়ে পুলিশি পদক্ষেপ, সংসদের অচলাবস্থা ও আন্দোলনের বিস্তার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অন্যত্র–
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি সমালোচনাকে নিজের সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নেবে, নাকি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার যুক্তিতে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে?
এই প্রশ্নের উত্তরই শুধু ভারতের বর্তমান সংকট নয়, আগামী দশকের রাজনৈতিক গতিপথও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে।
প্রশ্নফাঁস থেকে রাষ্ট্রের সংকট: ভারতের গণতন্ত্র কি এক নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে, নাকি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের আরেকটি অধ্যায়?
সহিদুল আলম স্বপন: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট

ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো–গণতন্ত্র খুব কম ক্ষেত্রেই একদিনে ধ্বংস হয়। অধিকাংশ সময় এটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নির্বাচন থাকে, সংসদও থাকে, আদালতও কাজ করে, সংবাদমাধ্যমও পুরোপুরি বন্ধ হয় না; কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়, রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হতে থাকে এবং ভিন্নমতকে ধীরে ধীরে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘জনবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই ধীর যে, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না, তারা একটি সুস্থ গণতন্ত্র থেকে একটি নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ভারতের সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন সেই বৃহত্তর প্রশ্নটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম দৃষ্টিতে এটি একটি শিক্ষাব্যবস্থার সংকট। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ যত এগিয়েছে, ততই এটি রাষ্ট্র, জবাবদিহি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সংহতি, সংসদে অচলাবস্থা, সরকারের সঙ্গে সংলাপের টানাপোড়েন এবং রাজধানী দিল্লিতে টানা বিক্ষোভ সব মিলিয়ে এটি এখন আর শুধু একটি পরীক্ষা বা একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা যখন ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, তখন মানুষ কেবল সরকারের বিরোধিতা করে না; তারা পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্ন করতে শুরু করে। ঠিক এ কারণেই ইতিহাসে বহু বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট কোনো সামাজিক বা প্রশাসনিক সংকট থেকে। কখনো রুটির দাম, কখনো করনীতি, কখনো ছাত্র আন্দোলন, কখনো শ্রমিক অসন্তোষ–এসবই পরে রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আজকের ভারতেও প্রশ্নটি কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁসের নয়। প্রশ্নটি হলো যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা কি সত্যিই সুরক্ষিত? রাষ্ট্র কি শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে? সরকারের সমালোচনা কি গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু ভারতের জন্য নয়; সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কোথায়?
অনেকেই মনে করেন নির্বাচনই গণতন্ত্রের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো–নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অংশ মাত্র।
একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ রয়েছে–
এই পাঁচটির মধ্যে একটি দুর্বল হলে গণতন্ত্র টিকে থাকে; কিন্তু একাধিক স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়লে গণতন্ত্রের কাঠামো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে।
এ কারণেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আজ ‘Electoral Democracy’ এবং ‘Liberal Democracy’-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। অনেক দেশে নির্বাচন হয়, কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা ক্রমশ কেন্দ্রিভূত হয়। বিরোধী দল নির্বাচন করে, কিন্তু সমান রাজনৈতিক সুযোগ পায় না। সংবাদমাধ্যম থাকে, কিন্তু সেলফ সেন্সরশিপের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। আইন থাকে, কিন্তু তার প্রয়োগ হয় পছন্দমাফিক।
এই বাস্তবতাকে অনেক গবেষক ‘Democratic Backsliding’ বা গণতান্ত্রিক পশ্চাৎগমন বলে অভিহিত করেছেন।
ফ্যাসিবাদ: একটি শব্দ, নাকি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া?
বর্তমান বিশ্বে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি রাজনৈতিক বিতর্কে খুব সহজেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে ফ্যাসিবাদ একটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ।
ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি এবং পরে জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলার যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল–
অতএব, কোনো সরকার জনপ্রিয় হলেই তাকে ফ্যাসিবাদী বলা যায় না। আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই একটি রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ উদার গণতন্ত্রও বলা যায় না। বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
বিশ্বরাজনীতির নতুন বাস্তবতা
গত এক দশকে বিশ্বের বহু দেশে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হাঙ্গেরিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, তুরস্কে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সম্পর্কের পরিবর্তন, ব্রাজিলে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক–সবই দেখিয়েছে যে গণতন্ত্রের সংকট আজ শুধু উন্নয়নশীল বিশ্বের নয়; এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা।
এই নতুন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ সবসময় সামরিক অভ্যুত্থান নয়; অনেক সময় গণতন্ত্রের ভেতর থেকেই এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং ব্যক্তিনির্ভর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি এই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়।

ভারতের সামনে যে বড় প্রশ্ন
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন তুলছেন। সরকার বলছে, সংলাপের পথ খোলা রয়েছে এবং সংকটের রাজনৈতিক ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। একই সময়ে পুলিশি পদক্ষেপ, সংসদের অচলাবস্থা ও আন্দোলনের বিস্তার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অন্যত্র–
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি সমালোচনাকে নিজের সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নেবে, নাকি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার যুক্তিতে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে?
এই প্রশ্নের উত্তরই শুধু ভারতের বর্তমান সংকট নয়, আগামী দশকের রাজনৈতিক গতিপথও অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে।
প্রশ্নফাঁস থেকে রাষ্ট্রের সংকট: ভারতের গণতন্ত্র কি এক নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে, নাকি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের আরেকটি অধ্যায়?
সহিদুল আলম স্বপন: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট

ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো–গণতন্ত্র খুব কম ক্ষেত্রেই একদিনে ধ্বংস হয়। অধিকাংশ সময় এটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নির্বাচন থাকে, সংসদও থাকে, আদালতও কাজ করে, সংবাদমাধ্যমও পুরোপুরি বন্ধ হয় না; কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়, রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হতে থাকে এবং ভিন্নমতকে ধীরে