বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান মূলত তার সমস্যা নয়। সমস্যা হলো, পররাষ্ট্রনীতির চিন্তাভাবনা অনেক সময় ভৌগোলিক সীমার মধ্যেই আটকে থাকে।
ঢাকা যদি পররাষ্ট্রনীতিকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, তাহলে বাংলাদেশের প্রায় সব হিসাবের কেন্দ্রেই থাকবে ভারত। ভৌগোলিক অবস্থান তো বদলানো সম্ভব নয়, তবে কোন কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে কাজ করবে, সেই পরিসর অবশ্যই বাড়ানো সম্ভব।
এরই মধ্যে সেই চেষ্টা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে ঢাকা। বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্যও সমর্থন চেয়েছে। একইভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ দেখানোও দক্ষিণ এশিয়ার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে যাওয়ার একটি চেষ্টা।
এই নতুন দিককে স্বাগত জানানো উচিত। এর অর্থ ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করা নয়। বরং বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তে ভারত যেন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে না থাকে, সেটিই এর লক্ষ্য।
তবে ভূরাজনীতি শুধু ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক সফর বা শক্তি দেখানোর ওপর চলে না। কোনো জোট টিকে থাকে তখনই, যখন সদস্যরা নিজেদের স্বার্থে একে অন্যকে সুবিধা দেয় এবং প্রয়োজন হলে কিছু মূল্যও দিতে রাজি থাকে।
তাই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে দুটি বাস্তব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে–বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশকে কী দেবে? আর বিনিময়ে ওই তিন দেশ বাংলাদেশকে কী দেবে?
বাংলাদেশ কি দিতে পারে?
মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে, শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে গিয়ে সুরক্ষা চাইতে হবে। বাংলাদেশেরও এমন কিছু সুবিধা আছে, যা প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এই জোটকে বঙ্গোপসাগর ও পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক এই জোটের যোগাযোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকেও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের আরও একটি বড় শক্তি হলো দেশটির পেশাদার সামরিক বাহিনী। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শান্তিরক্ষী সেনা ও পুলিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদানকারী দেশ।
বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে জোটটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে। এতে প্রমাণ হবে, জোটটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠাতা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে একটি বড় মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশকে যুক্ত করা জোটটির গুরুত্বও বাড়াবে।
এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশ বাংলাদেশকে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম কেনা, কূটনৈতিকভাবে সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক সংকটের সময় সেনা বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মতো বিষয় আশা করতে পারে।
ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশের বন্দর, আকাশসীমা বা সামরিক স্থাপনাও ব্যবহারের সুযোগ চাইতে পারে। এগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ছাড় হবে। তাই শুধু প্রতীকী সদস্যপদ বা অস্পষ্ট বন্ধুত্বের আশ্বাসের বিনিময়ে ঢাকা এসব সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশ কী চাইবে
চুক্তির মূল ধারায় বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাই বাংলাদেশ যদি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে প্রয়োজনে সহায়তা করার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ওই তিন দেশকেও একইভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আর পরে যোগ দেওয়া সদস্য–এমন কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের স্থলভূমি, আকাশসীমা, সমুদ্রসীমা, সামরিক বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
চুক্তিতে আরও পরিষ্কার করে বলতে হবে, কোন ঘটনাকে সশস্ত্র হামলা বলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কে নেবে, হামলা হলে কত দ্রুত সদস্য দেশগুলো আলোচনা শুরু করবে এবং কী ধরনের সহায়তা দিতে হবে।
বর্তমানে প্রকাশিত চুক্তিতে এসব বিষয়ে খুব বেশি বিস্তারিত নেই। বাস্তব পরিকল্পনা না থাকলে যৌথ প্রতিরক্ষার এই প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে থাকা কথায় পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশের শান্তির সময়ও কিছু বাস্তব সুবিধা দাবি করা উচিত। তুরস্ক বাংলাদেশকে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও নৌপ্রযুক্তি দিতে পারে। পাকিস্তান সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিতে পারে। সৌদি আরব সামরিক আধুনিকায়নে অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
চুক্তিতে ইতোমধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। বাংলাদেশকে জোর দিতে হবে, এসব প্রযুক্তির কিছু উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কাজ যেন বাংলাদেশেই হয়।
শুধু তুরস্ক বা পাকিস্তানের অস্ত্র কেনার বাজারে পরিণত হলে সেটিকে কৌশলগত অংশীদারত্ব বলা যাবে না। বাংলাদেশের আসল লাভ হওয়া উচিত প্রযুক্তি অর্জন, নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
ভারতকে ঘিরে ঝুঁকি
এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। এর উত্তর শুধু মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতির আবেগ দিয়ে দেওয়া যাবে না।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সংঘাত হলে পাকিস্তানের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি হতে পারে। কারণ পাকিস্তানও ভারতকে তার প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। তবে পাকিস্তান জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমিত বিরোধ আরও বড় হয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হবে।
কূটনৈতিক ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ক তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল। এতে ভারত ক্ষুব্ধ হয়েছিল এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছিল। তবে তুরস্কের সঙ্গে ভারতেরও বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের প্রতিটি সংকটে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে–এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সৌদি আরব আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশ সহযোগিতা করে।
তাই বাংলাদেশের পানি বণ্টন, বাণিজ্য বিরোধ, সীমান্তে কোনো ঘটনা বা সাধারণ কূটনৈতিক বিরোধের কারণে সৌদি আরব ভারতের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে–এমনটা আশা করা ঠিক হবে না।
তবে বাংলাদেশের ওপর সরাসরি ও স্পষ্ট সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি বাংলাদেশ চুক্তির পূর্ণ নিরাপত্তা পায়, কিন্তু অন্য তিন দেশ পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে পুরো জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জোটের অন্য সদস্যরাও সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করবে।
প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোকে সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতেই হবে, এমন নয়। তারা বাংলাদেশকে অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন, কূটনৈতিক সমর্থন, সাইবার সহায়তা বা অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার মতো সহযোগিতা করতে পারে। সবাই মিলে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হামলাকারীর জন্য ঝুঁকি ও খরচ বেড়ে যাবে। ফলে সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কমবে।
এটাই যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থার মূল কথা। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার সক্ষমতা দেওয়া নয়। বরং এমন যুদ্ধ যাতে না হয়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা।
তবে শুধু চুক্তিতে কিছু কথা লিখে রাখলেই সেটি বিশ্বাসযোগ্য হবে না। বাংলাদেশকে যৌথভাবে সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা, নিয়মিত সামরিক মহড়া, নিরাপদ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের চুক্তি এবং জরুরি সময়ে সামরিক সহায়তা দেওয়ার স্পষ্ট নিয়ম করতে হবে।
এসব ব্যবস্থা থাকলে বোঝা যাবে, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিটি শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, এখানে বাস্তবতাও আছে।
চুক্তির খুঁটিনাটি বুঝে নেওয়া জরুরি
বাংলাদেশকে অবশ্যই ঠিক করতে হবে, সে কী কী দিতে রাজি। চুক্তিতে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়, যার কারণে অন্য কোনো সদস্য দেশ নিজের উদ্যোগে যুদ্ধ শুরু করলে বাংলাদেশকেও সেই যুদ্ধে যেতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশি সেনা পাঠাতে হলে সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে হলে আলাদা চুক্তি প্রয়োজন হবে।
মক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে, শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে গিয়ে সুরক্ষা চাইতে হবে। ছবি: রয়টার্স
এই জোটে যোগ দেওয়ার কারণে জাতিসংঘ বা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থায় সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের প্রতিটি অবস্থানকে বাংলাদেশের সমর্থন করতে হবে–এমন বাধ্যবাধকতাও থাকা উচিত নয়।
একইভাবে ভারত, চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা জোটের বাইরের উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করার মতো কোনো শর্তও থাকা উচিত নয়।
চুক্তিতে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা, বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি এবং প্রয়োজন হলে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে। সদস্য হতে গিয়ে বাংলাদেশকে কত টাকা খরচ করতে হবে, যৌথ প্রতিষ্ঠান, সামরিক মহড়া, অস্ত্র কেনা ও বিভিন্ন অভিযানে কত অর্থ দিতে হবে–সেটিও পরিষ্কার থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চুক্তি অনুমোদনের আগে সরকারকে এর সব শর্ত প্রকাশ করতে হবে। সংসদ ও জনগণের জানা উচিত, বাংলাদেশ সত্যিকারের যৌথ প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা পাচ্ছে, নাকি শুধু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেখানোর জন্য নতুন কিছু দায়িত্ব নিচ্ছে।
আসিয়ানমুখী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানানো যায়। কারণ এর মাধ্যমে ভারতকেন্দ্রিক কূটনৈতিক চিন্তার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে কৌশলগতভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর অর্থ যেন এক ধরনের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে অন্য আরেক দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া না হয়।
এই চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা, সামরিক প্রযুক্তি এবং কূটনৈতিকভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে। আবার এর কারণে দূরের বিভিন্ন সংঘাতে বাংলাদেশকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, অথচ বাংলাদেশের স্বার্থ বিপদের মুখে পড়লে হয়তো তেমন সুরক্ষাও পাওয়া যাবে না।
তাই বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে মূল প্রশ্নটি খুব সহজ– চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো বাংলাদেশকে কী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে? আর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে তারা কি সত্যিই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত?
এসব প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখানো সমীচীন হবে না।
লেখক পরিচিতি: মো. ওবায়দুল্লাহ ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক। তিনি ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ভিজিটিং স্কলার হিসেবেও কাজ করছেন।