চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের (এলসিটি) নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালদিয়ার চর এলাকায় নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও ডেনর্মাকের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মোলার উপস্থিত ছিলেন।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরে সর্ম্পূণ বিদেশী বিনিয়োগে নির্মাণ হতে যাওয়া প্রথম টার্মিনাল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে এ টার্মিনাল। ডেনর্মাকভিত্তিক মার্য়েস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস নতুন এ টার্মিনাল নির্মাণ করছে।
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য অর্ন্তবর্তী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে চুক্তি করে ডেনমার্কের মার্য়েস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। চুক্তির শর্তানুযায়ী এ বছরের ২২ এপ্রিল এপিএম টার্মিনালসকে প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কনসেশন চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ৩ বছরে নির্মাণকাজ শেষ করার পর পরবর্তী ৩০ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। চুক্তির শর্তপূরণ ও পালন করলে এই মেয়াদ আরো ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এলসিটির মূল টার্মিনাল অংশ হবে ৩২ একর জুড়ে। এরপর ৭ দশমিক ১৫ একারের কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একরের ট্রাক পার্কিং ও প্রি গেট সুবিধা মিলিয়ে পুরো টার্মিনালটি হবে ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে।
খালি জমি থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত রূপান্তরে সব অবকাঠামো নির্মাণকাজ করবে বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। কনসেশন মডেলে এই টার্মিনালের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর (ডিবিএফওটি) এই কয়েক ধাপে বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করা হবে।
বন্দর সচিব রেফায়েত হামিম জানান, এই টার্মিনালের ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটিতে বছরে ৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) বিনিয়োগ, যাতে মোট ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা বিশেষায়িত কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে মোট তিনটি। এগুলো হল- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)। এছাড়া জেনারেল কার্গো বাথের (জিসিবি) কয়েকটি জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ ভেড়ে।
এরমধ্যে, এনসিটি নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড, পিসিটি সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি এবং সিসিটি বেসরকারি একটি প্রতিষ্টান পরিচালনা করে থাকে। লালদিয়ার চর টার্মিনাল হচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল।