আলোচিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “তারা সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।”
এদিকে, বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও এই ইস্যুতে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চলবে নিজের মতো।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।
অপরদিকে, গতকাল শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে এই চুক্তি সম্প্রসারিত হলে তা মুসলিম পরিবারের ভেতরের বিষয় এবং এটি নিয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগের অবকাশ নেই।
চুক্তিটির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আরও জানান, এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের বিষয়টি এখনো সরাসরি আসেনি। তবে চুক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তবে বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সব ধরনের ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হয়। ভারতের নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।”
গত ৭ আগস্ট তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। যা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে অভিহিত। চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, চুক্তিটি তিন দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি, এটি তাদের অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ এবং দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে- এই পদক্ষেপটি প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।