Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

নির্বাচন শেষ: এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পালা

ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ

ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৪৮
নির্বাচন শেষ: এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পালা

বহুল প্রতীক্ষিত ও আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর ভোটকেন্দ্রে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার দৃশ্য– গণতন্ত্রের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকলের কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। গণতন্ত্র কেবল ব্যালটের লড়াই নয়; এটি আস্থার প্রশ্ন। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এই নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বিজয় ও বিরোধিতার নতুন সমীকরণ

এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তাদের জোটসঙ্গীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। তাদের এই সাফল্যের জন্য জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। একই সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে নির্বাচনকে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটও প্রশংসার দাবিদার। গণতন্ত্রে শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধীদলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গণতন্ত্রের এই পর্বকে একটি ‘নির্বাচনী ইকোসিস্টেম’ হিসেবে দেখলে দেখা যায়– জনগণই এখানে মূল নিয়ামক। তারা অতিথি নন, বরং প্রকৃত মালিক। তাদের ভোট হলো এক অমূল্য উপহার, যা তারা আস্থা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে বিজয়ী দলের হাতে তুলে দিয়েছেন। এখন সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার পালা।

ক্ষমতা নিয়েই যেসব কাজে হাত দিতে পারে বিএনপিtariquee

‘মেহমানদারি’র রাজনৈতিক দর্শন

জনগণ যদি মালিক হন, তবে নির্বাচিত সরকার তাদের সেবক– এই বোধ থেকেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতে হবে। বিজয়ী দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব হবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা। অন্যদিকে বিরোধীদল হিসেবে ১১-দলীয় জোটের ভূমিকা হবে গঠনমূলক সমালোচনা, নীতিগত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা।

এটাই ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য। সরকার যেন স্বেচ্ছাচারী না হয়, আবার বিরোধীদল যেন কেবল বাধা দেওয়ার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যে, বিরোধিতাও রাষ্ট্রগঠনের অংশ।

১৯৯১-এর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জন্য এটি এক নতুন সুযোগ। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে তুলনামূলকভাবে যে সংযত, মেধাভিত্তিক ও দায়িত্বশীল মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থ, অতিরিক্ত ক্ষমতালিপ্সা কিংবা দলীয়করণ—এসব থেকে দূরে থেকে একটি দক্ষ, সৎ ও কম স্বার্থান্বেষী মন্ত্রিসভা গঠন সময়ের দাবি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন প্রয়োজন– অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠন; প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি; দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অবস্থান; বিচার ও প্রশাসনে নিরপেক্ষতা; তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন; এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো। জনগণ কেবল সরকার পরিবর্তন চায় না; তারা শাসনব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন চায়।

বিরোধীদলের কৌশলগত দায়িত্ব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের জন্যও এটি একটি পরীক্ষা। সংখ্যায় কম হলেও কার্যকর বিরোধীদল হওয়া সম্ভব– যদি তারা তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নীতিগত বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে।

তাদের আগেভাগেই বিশ্লেষণ করতে হবে– সরকার কোথায় ভুল করতে পারে, কোন নীতিতে ঝুঁকি রয়েছে, কোন খাতে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। বিরোধিতা যেন প্রতিহিংসার না হয়ে নীতিনিষ্ঠ হয়। ভুল পথে গেলে সরকারকে সতর্ক করা হবে, কিন্তু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে সমর্থনও দেওয়া হবে– এমন রাজনৈতিক পরিপক্বতা এখন জরুরি।

নির্বাচনে কোন দল কয়টি আসন পেলparliament house (3)

নতুন রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা

বিএনপি ক্ষমতায় এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় জোট বিরোধী দলে– এমন সমীকরণ অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। এই বাস্তবতা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।

যদি সরকার দায়িত্বশীল হয় এবং বিরোধীদল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে, তবে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে– যেখানে ক্ষমতা ও জবাবদিহি পাশাপাশি চলবে।

জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাশা

সবচেয়ে বড় কথা– জনগণ আবারও ভোট দিয়েছে। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আস্থা প্রকাশ করেছে। এখন সেই আস্থাকে মর্যাদা দেওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।

গণতন্ত্র কেবল পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা লাভের সুযোগ নয়; এটি জনগণের সঙ্গে এক নৈতিক চুক্তি। সেই চুক্তি রক্ষা করতে হলে দরকার সংযম, প্রজ্ঞা, স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।

আমরা আশাবাদী, এই নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। নির্বাচন শেষ হয়েছে; এখন শুরু হোক দায়িত্ব পালনের প্রতিযোগিতা।

দেশ এগিয়ে নেওয়ার পালা– এবার সত্যিকার অর্থেই।

লেখক: অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; এবং আহবায়ক, ওয়েল-বিয়িং-ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ (ওয়েফি), বাংলাদেশ।

বিষয়: বিএনপিগণতন্ত্রনির্বাচনজামায়াতে ইসলামীরাজনীতি
সর্বশেষ
  • ১

    ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

  • ২

    খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

  • ৩

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আগুন, সবশেষ যা জানা গেল

  • ৪

    হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪

  • ৫

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া