
‘ক্রেডিট কার্ড কখনোই ঋণের ফাঁদ নয়, সক্ষমতা বুঝে ব্যবহার করুন’
এটি মূলত তথ্যের পরিষ্কার ধারণার অভাবে তৈরি একটি ভুল ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সুদের সীমার ভেতরেই সব ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানাই। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), তিনি পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
নির্বাচনের এই ফলাফল ৩৫ বছর আগে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই নির্বাচনের সময়ও বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তখন বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। আর এখন জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্ররা। সেবারে বিরোধী দলের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। এবারে বিরোধী দল হেরে যাবে জেনেও প্রার্থী দিয়েছে, তাদের ভাষায়, ‘সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছেন। বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশে আমরা কোনো কিছুই বিতর্কের বাইরে রাখতে পারি না। এ কারণেই ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল। তাদের অভিযোগ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সরকার নির্বাচন দিলে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মতভেদ থাকায় উচ্চকক্ষ গঠিত হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
সংবিধান সংশোধনে জাতীয় সংসদে যে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে, তাতে বিরোধী দল অংশ নেয়নি। তারা এই অবস্থানে অনড় থাকলে সরকারি দলের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সমঝোতায় আসা অথবা তাদের ছাড়াই সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়।
সাংবিধানিক বিতর্ক সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অত্যন্ত সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন। আমাদের জাতীয় সংসদে এ রকম দৃশ্য দ্বাদশ সংশোধনী পাসের পর আর দেখা যায়নি। এ জন্য সরকারি-বিরোধী দলের সদস্যরা ধন্যবাদ পেতে পারেন।
বাংলাদেশে কোনো কিছু যে নিয়ম মাফিক চলে না তার প্রমাণ ৫৫ বছরে ২৩জন রাষ্ট্রপতি পাওয়া। সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগেই বিদায় নিয়েছেন। সদ্যবিদায়ী ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৩ বছর ৩ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনও হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে সরাতে রাজি হয়নি।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। শিক্ষকতা ছেড়ে আবার রাজনীতিতে এসে তৃণমূল থেকে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিবের পদ অলঙ্কৃত করেন। তিনি প্রথমে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের সম্মেলনে মহাসচিব হন।

বিএনপির সবচেয়ে কঠিন ও বৈরি সময়ে মির্জা ফখরুল এই দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে কজন ব্যতিক্রমী নেতা নিজেদের নিষ্কলুষ ভাবমূর্তি জনগণের মাঝে তুলে ধরতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অগ্রগণ্য। তার সাদামাটা ও আড়ম্বরহীন জীবনযাপনও উদাহরণ হয়ে আছে। তিনি কখনো অন্যদের মতো দলের ভেতরে দল করতে চাননি। সর্বস্তরের কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল হার্দিক ও আন্তরিকতাপূর্ণ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তার শূন্যস্থানগুলো পূরণ করবে কারা? তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি হবে। দলের মহাসচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও সংসদে ঠাকুরগাঁও-১ আসন। এসব পদ পূরণেও বিএনপি নেতৃত্বকে বিচক্ষণ হতে হবে। ইতিমধ্যে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটির ক্ষমতা যত সীমিত হোক না কেন, তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। দেশের এক নম্বর নাগরিক। তিনি একটি দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হলেও নির্বাচনের পর আর দলের থাকেন না। অতীতে অনেক রাষ্ট্রপতি এটি মনে রাখেননি। এ জন্য তারা সমালোচিতও হয়েছেন। আশা করি, নতুন রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালে বিষয়টি মনে রাখবেন। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর জাতীয় নির্বাচনকালে তার ওপর যে গুরু দায়িত্ব বর্তাবে সেটি তাকে পালন করতে হবে কঠোর নিরপেক্ষতার সঙ্গে। এতদিন রাজনীতিক মির্জা ফখরুল বিবেক দ্বারা চালিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলও তার ব্যতিক্রম হবেন না। যে কোনো জাতীয় দুর্যোগে তাকে দেশবাসী প্রকৃত অভিভাবকের ভূমিকায়ই দেখতে চায়।
সোহরাব হাসান: সম্পাদক, চরচা।

এটি মূলত তথ্যের পরিষ্কার ধারণার অভাবে তৈরি একটি ভুল ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সুদের সীমার ভেতরেই সব ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এত কিছুর পরও জর্জ ইস্টম্যানকে আমরা মনে রেখেছি ক্যামেরার মানুষ হিসেবে। তাতেও এই মহান ব্যক্তিত্বকে পাঠ করতে আমাদের অসুবিধা হয় না। ফটোগ্রাফির দীর্ঘ ইতিহাসে তার এবং তার কোডাকের যে অবদান, তার তুলনা হয় না।

যদি বিরোধী দলের কাউকে জিজ্ঞেস করেন, বিএনপি সরকার কেমন দেশ চালাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে তিনি বলবেন, “খুব খারাপ। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। জনজীবনে সংকট আরও ঘনীভুত হয়েছে।” আর যদি সরকার সমর্থক কারও কাছে একই প্রশ্ন করেন, তিনি বলবেন, “খুবই ভালো। গত ৬ মাসে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, গত ৫৫ বছরেও তা হয়নি।”

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থসংকটে বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্প সংকুচিত–এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রায় অনিবার্য। তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট থেকে উত্তরণ করতে হলে বাংলাদেশের বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অথচ আইএমএফ এখনও ঋণ ছাড়েনি।