Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ অক্টোবর, ২০২৬
২১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ অক্টোবর, ২০২৬
২১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল যাবে কবে?

আল হেলাল শুভ

আল হেলাল শুভ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ০৯
সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল যাবে কবে?
রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: চরচা

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আগে বিভিন্ন সময় তিন দফা একই উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

Advertisement

টার্মিনাল স্থানান্তরে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টদেরও আপত্তি নেই। তবে তারা বলছেন, সায়েদাবাদে বর্তমানে বাস রাখার জায়গা, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রী সংগ্রহের বিষয়গুলো নিশ্চিত করেই টার্মিনাল স্থানান্তর করা দরকার। তারা বলছেন, বর্তমানে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা নতুন জায়গায় একসঙ্গে নিশ্চিত করা সহজ নয়। কাঁচপুরে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রস্তুত না করে বাস ও কাউন্টার সরিয়ে নিলে পরিবহন পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০০৭ সালে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঢাকা মহানগরে থাকা এই বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফা চেষ্টা করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণ শেষ করে। তবে পরে আর সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সায়েদাবাদ টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নড়েচড়ে বসেছে।

তিন দফার চেষ্টা

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরাতে অন্তত তিন দফা সরকারি উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৭ সালে। তখন রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরই একটি সায়েদাবাদ টার্মিনাল, যা কাঁচপুরে নেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আবার এটি স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে। পরে জমির জন্য রাজউকের কাছে আবেদন করা হয়। পরে ২০২২-২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবারও পরিকল্পনা করে। তখন কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ ও অধিগ্রহণের উদ্যোগ এগোয়। পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তখনকার মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সময়ে সাড়ে ১২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। তখন ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটি চালুর প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮ কোটি টাকা। কিন্তু প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালটির কাজ আর এগোয়নি।

পরিষ্কার তথ্য আছে দুই পক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীgathering

ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে?

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহরের অভ্যন্তরের আন্তঃজেলা টার্মিনালগুলো সরানোর নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী সায়েদাবাদ টার্মিাল কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক অবকাঠামো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার বাস কাঁচপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে এই কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ৩০ শতাংশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। তবে টার্মিনালের নির্মাণকাজ, সংযোগ পরিবহনের পরিকল্পনা, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিবহন মালিকদের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে স্থানান্তর সম্পন্ন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন উঠছে, যে টার্মিনালের নির্মাণকাজ এখনো ৩০ শতাংশে আটকে, সেখানে ডিসেম্বরেই বাস সরানোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত?

২০২৬ সালের ২৪ জুন কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ ছয় মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য জানান। এরপর ৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি টার্মিনালের শেড, টিকিট কাউন্টার, শৌচাগার ও অফিসকক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরাতে অন্তত তিন দফা সরকারি উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরাতে অন্তত তিন দফা সরকারি উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

সবশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে এই আধুনিক টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরমান হোসেন সাগর চরচাকে বলেন, “টার্মিনালের ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা যায়। আশা করছি, পরিকল্পনা অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা rmc

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

কাঁচপুরে বাস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত সংযোগ পরিবহন ও যাত্রীসুবিধা নিশ্চিত না করে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলে বাড়তি ভাড়া, সময় নষ্ট এবং একাধিক যানবাহন পরিবর্তনের ভোগান্তিতে পড়বেন যাত্রীরা।

পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, কাঁচপুরে নতুন টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে হবে–এ বিষয়টি নিশ্চিত না করে স্থানান্তর করা কঠিন। এর আগেও সায়েদাবাদের কাউন্টার বন্ধ বা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, কাউন্টার বন্ধ রাখার উদ্যোগ স্থায়ী হয়নি। ফলে এবারও শুধু ঘোষণা দিয়ে বাস স্থানান্তর করা কতটা সম্ভব–সে প্রশ্নও থাকছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা শুধু স্থান পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন না; নতুন স্থানে বাস পরিচালনা, পার্কিং ও যাত্রীসেবার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানাচ্ছেন। ফলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা এবং কাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

সায়েদাবাদের হিমাচল পরিবহনের ম্যানেজার সাহান উদ্দিন চরচাকে বলেন, “এটা কি সম্ভব নাকি?” তার উল্টো প্রশ্ন, “কাঁচপুর গিয়ে কি যাত্রী উঠব? এতে যাত্রীর হয়রানি হবে বেশি। এটার পক্ষে আমাদের পরিবহন সংশ্লিষ্ট কেউ না।”

সাহান উদ্দিন মনে করেন, কাউন্টার স্থানান্তরের আগে যাত্রী পাওয়া, বাস ছাড়ার সময় এবং যাত্রীদের অপেক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত যাত্রী না পেলে বাস ছাড়তে দেরি হতে পারে, আবার যাত্রীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।”

সাহান বলেন, ‘‘সরকার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলে স্থানান্তর সম্ভব হতে পারে। তবে যাত্রীরা যেন সহজে বাসে উঠতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে স্থানান্তর হলে ভালো হতো বলে মনে করেন মামুন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মেহেদী হাসান। চরচাকে তিনি বলেন, “এটা হলে তো ভাল। কিন্তু হয়তো সম্ভব হবে না।”

কেন সম্ভব হবে না–জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাত্রীদের কষ্ট হবে। তারা যেতে চাইবে না। তারা গেলে আমাদের কোনো সমস্যা নাই।”

মেহেদী বলেন, “বর্তমানে সায়েদাবাদে বাস রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে। কাঁচপুরে স্থানান্তরের পর একই ধরনের সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নতুন স্থানে বাস পার্কিং, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে একসঙ্গে সব বাস সরিয়ে নেওয়া হলে পরিবহন পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে।”

শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন মন্টুর মতে, টার্মিনালের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সায়েদাবাদের কাউন্টার সরানো উচিত হবে না।

সড়ক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ চরচাকে বলেন, “যখন আমরা একটা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে নিয়ে যাই, তখন মানুষ যদি ওখানেই নামতে থাকে, তাহলে মানুষের জন্য আরেকটা নতুন বাহন দরকার হয়। ধরুন, আমি যদি চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা থেকে এসে যদি কাঁচপুর নেমে যাই, কাঁচপুর থেকে আবার আমাকে আরেকটা কোনো একটা কিছুতে করে আবার ঢাকায় আসতে হবে। তখন এটা আল্টিমেটলি গাড়ির সংখ্যা বাড়ায়।”

এ জন্য বাস ডিপোগুলোকে শহরের বাইরে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, “এ জন্য আমরা বাস ডিপোগুলোকে শহরের বাইরে নেওয়ার কথা বলি, কিন্তু বাস টার্মিনাল না। তার মানে বাসগুলো অবশ্যই সায়েদাবাদে আসবে, কিন্তু সায়েদাবাদে থামতে পারবে না। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আবার যাত্রী নিয়ে সরাসরি চলে যাবে। এটা হলো একটা বেটার সলিউশন, যদি এভাবে থাকা যায়। কিন্তু বড় বাস যদি সব কাঁচপুরে থেমে যায়, তাহলে মানুষের জন্য এই জায়গাটা কমিউট করাটা (ঢাকায় আসা) একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”

চট্টগ্রামে ‘ক্লিন ইমেজের’ মানুষদের প্রার্থী করার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী pm_chittagong

বিশেষ শাটল বাস সার্ভিস কত দূর

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ শাটল বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এরপরও এ সার্ভিসে কতটি বাস চলবে, কতক্ষণ পরপর ছাড়বে, ভাড়া কত নির্ধারণ করা হবে এবং কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত চলবে–এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু ডিএসসিসি জানায়নি। রাতের যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, “আমি যদি একটা গাড়ি ওখানে থামাই, আরেকটা গাড়ি ঢুকাই, দ্যাট মিনস, জাস্ট শুধু আমার ট্রান্সফারের একটা হ্যাসেল বাড়ল, আর তো কিছু হলো না। ধরেন, আমি ৩৪ সিটের একটা বাস থেকে আবার আমি ৩০ সিটের একটা বাসে মানুষকে ট্রান্সফার করলাম, আল্টিমেটলি লাভ কী হলো? লাভ তো খুব একটা হলো না।”

ফাহাদ বলেন, ‘‘আমি একটা বাসকে থামাচ্ছি, আরেকটা বাসে শুধু উঠাই দিচ্ছি, লাভ কী হচ্ছে? আবার ওখান থেকে অনেকে চিন্তা করবে, আমি আবার আরেকটা বাসে উঠব না, তার চেয়ে আমি দুইটা সিএনজি নিই, তাহলে পাঁচটা সিএনজি আরও বাড়ল আমাদের ট্রাফিকের সাথে। এটা আসলে ভালো সলিউশন না অবশ্যই।”

এসব কারণে বাস টার্মিনালটা সায়েদাবাদে থাকা দরকার বলে মনে করেন আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। কত শাটল বাস লাগতে পারে–জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তো আসলে আমার যতটুক আন্ডারস্ট্যান্ডিং, এটা আসলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না খুব গুড একটা ডিসিশন হতে পারে। আরেকটু চিন্তা ভাবনা করা দরকার, কারণ হচ্ছে–গিয়ে এই শাটল বাসটা আপনার কী পরিমাণ মানুষ ঢাকায় ঢুকবে, সেই পরিমাণ শাটল বাস দিতে হবে, সোজা কথা।”

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা, ৩৭৮টি বাস পার্কিং, ২২টি বাস বে, ৫টি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার, পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস ও ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থান রয়েছে।

অর্থাৎ, পরিকল্পনায় বাস রাখা, টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য অবকাঠামো রাখা হয়েছে। কিন্তু টার্মিনালে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ব্যবস্থা কী–সে বিষয়ে এখনও পরিকল্পনা হয়নি।

যা বলছে যাত্রীরা

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী হেদায়েত কবির বলেন, “সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের আগে যাত্রীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু টার্মিনাল সরিয়ে নিলেই হবে না, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা কীভাবে সেখানে পৌঁছাবেন, সেই পরিকল্পনাও থাকতে হবে।” তিনি বলেন, “ভাড়া ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু যাত্রীরা যেন সহজে ও নিরাপদে টার্মিনালে পৌঁছাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে, তারপর টার্মিনাল স্থানান্তর করা উচিত।”

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটগামী যাত্রী শাহজাহান আলীও মনে করেন কাঁচপুরে টার্মিনাল স্থানান্তর করার আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও টার্মিনালে যাতায়াতের বিষয়টি দেখতে হবে। তিনি যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় নিয়েও চিন্তিত।

চরচাকে তিনি বলেন, “বর্তমানে সায়েদাবাদে এসে সরাসরি দূরপাল্লার বাসে ওঠা যায়। কিন্তু কাঁচপুরে যেতে হলে আগে অন্য যানবাহনে যেতে হবে, এরপর দূরপাল্লার বাস ধরতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। পরিবার নিয়ে যাতায়াত করা যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে সংযোগ পরিবহন না পেলে যাত্রীদের বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হতে হবে। তাই স্থানান্তরের আগে শাটল সার্ভিসের ভাড়া, সময়সূচি, নিরাপত্তা ও ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা জরুরি।”

কাঁচপুরে টার্মিনাল স্থানান্তরের মূল যুক্তি হলো, দূরপাল্লার বাসকে রাজধানীর ভেতরে প্রবেশ ও অবস্থান কমিয়ে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানজট কমানো। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে টার্মিনালকেন্দ্রিক বাসের চাপ এবং পার্কিংয়ের কারণে সড়কে তৈরি হওয়া কিছু প্রতিবন্ধকতা কমতে পারে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে বাসের রুট, যাত্রী ওঠানামা এবং সংযোগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনার ওপর।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা যাত্রী শারমিন জাহান চরচাকে বলেন, “সায়েদাবাদ থেকে বাস কাঁচপুরে সরিয়ে নিলে যানজট কমবে কি না, সেটা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য কাঁচপুরে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়া কতটা সহজ হবে, সেটাও ভাবতে হবে।”

শারমিন বলেন, “রাতে বাস থেকে নেমে নিরাপদ গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই বাস সরানোর আগে পর্যাপ্ত সংযোগ পরিবহন, সহনীয় ভাড়া, নিরাপদ অপেক্ষার জায়গা ও নারী যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু যানজট কমানোর কথা ভাবলে হবে না, যাত্রীদের যাতায়াত যেন আরও ব্যয়বহুল ও কষ্টকর না হয়, সেটিও দেখতে হবে।”

‘পাপের লাশ’ কীভাবে আমাদের ‘শেখা’র উপকরণ হচ্ছে?bd-soudi-flag

সব প্রস্তুতির পরই স্থানান্তর সম্ভব: মালিক সমিতি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম চরচাকে বলেন, “টার্মিনালে যদি সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে, তাহলে তো সম্ভব।” তবে তিনি মনে করেন, সায়েদাবাদ থেকে বাস সরিয়ে নিলেই হবে না; নতুন স্থানে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, নিরাপত্তা ও যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সাইফুল বলেন, “সায়েদাবাদ থেকে দেশের কাঁচপুর গেলে যাত্রীদের ভাড়াও দ্বিগুণ লাগবে। সেখানে বৃদ্ধ, শিশুরা, অসুস্থ মানুষ থাকবে। সে ক্ষেত্রে আরেকটি সিটি সার্ভিস যুক্ত করতেই হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ও আছে।”

কাঁচপুরে পূর্ণাঙ্গ টার্মিনাল চালুর আগে সেখানে বাস রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মনে করেন মালিক সমিতির মহাসচিব। তিনি বলেন, “পূর্ণাঙ্গ টার্মিনালের সুযোগ সুবিধা করা তো সময়েরও ব্যাপার। সে ক্ষেত্রে যদি আগে থেকেই আমাদের ডিপো হিসেবে ব্যবহার করতে দেয় তাহলে আমরা ব্যবহার করব।”

মহাসচিব সাইফুল জানান, সায়েদাবাদ থেকে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বাসের জন্য কেরানীগঞ্জের চুরকুটিয়ায় আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে, যার অস্থায়ী কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, চুরকুটিয়া টার্মিনাল হলে যদি সায়েদাবাদের টার্মিনাল শিফট না করলেও চলে, তখন সেটা (সায়েদাবাদ) শুধু ডিপো হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

সাইফুল আলমের মতে, যানজট নিরসন ও ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখতে কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ ইতিবাচক হতে পারে। তবে সেখানে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ।

এবার স্থানান্তর হবেই, আশাবাদী ডিএসসিসি

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ অনেক দূরে এগিয়ে গেছে এবং এটা হবেই। কোনো প্রতিবন্ধকতা নাই, কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং এটা খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে।”

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীযানজটবাসরাজধানীঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনতারেক রহমানটার্মিনাল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    যশোরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

  • ২

    পথের ধারের খাবারের দোকানকেও নিতে হবে লাইসেন্স

  • ৩

    জনমিতিক লভ্যাংশকে বেকারত্বের অভিশাপে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না

  • ৪

    আজ বিজয়া দশমী

  • ৫

    বিক্ষোভ দমাতে ফ্রান্সে শনিবার ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা

সম্পর্কিত
  • ডেঙ্গুর টিকা: বাংলাদেশ কী করবে? অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী?

    ডেঙ্গুর টিকা: বাংলাদেশ কী করবে? অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কী?

    দেশে এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যু আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধরনও বদলেছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮২০ জন।

  • মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৮৫ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলার সেরা প্রধান শিক্ষক। যে প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তিনি ৯৫ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করা

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, কিংবা এই যে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যুদ্ধের যে সরঞ্জাম–এই সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু এক। আর তা হলো সেমিকন্ডাক্টর, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল জ্বালানি’। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, জাপানের মতো

  • সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে থাকা ছোট্ট ব্যান্ডরোল শুধু একটি কাগজের ফিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের হিসাব। কোন দামের সিগারেট, কত শলাকা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের বিপরীতে কত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হওয়ার কথা, তা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ব্যান্ডরোল ব্যবস্থা।