সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কল কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই- আমাদের কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছ, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা দেশে ভ্রান্তি ছড়ায়, যারা নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে।”
একাত্তর ও চব্বিশের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সব শহীদের স্মরণে আমরা গতকাল ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমরা বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।”
সরকারপ্রধান বলেন, “স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে তারা চব্বিশকে ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল! সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল- ‘রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড’। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের তো কিছু যায়-আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না?”
তারেক রহমান বলেন, “উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তবে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী ৫ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।”
এর আগে জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন।