Advertisement Banner

হরমুজ বন্ধ, চীন-ভারত-পাকিস্তানে ঠিকই যাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
হরমুজ বন্ধ, চীন-ভারত-পাকিস্তানে ঠিকই যাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ
অচলাবস্থায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে। ছবি: রয়টার্স

জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এলএনজি বহনকারী তিনটি ট্যাঙ্কার এবং প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকা ইরাকি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজগুলো পাকিস্তান, চীন ও ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। রয়টার্সে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথ দিয়ে দৈনিক গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করলেও, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া শত শত জাহাজে প্রায় ২০ হাজার নাবিক চরম অনিশ্চয়তায় অবরুদ্ধ দিন কাটাচ্ছেন।

তবে এই তীব্র অচলাবস্থার মাঝেই ইরান নির্দেশিত একটি বিকল্প ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগর ছাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে, তিনটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ (ভিএলসিসি) ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

শিপিং ডেটা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলার-এর তথ্যমতে, বাহামার পতাকাবাহী ‘ফুওয়াইরিত’ নামক একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার ১৮ মে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানে পণ্য খালাস করবে। এছাড়া কাতারের রাস লাফান থেকে জ্বালানি বোঝাই করা ‘আল রাইয়ান’ নামক অপর একটি ট্যাঙ্কার বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী প্রণালীর বাইরে অবস্থান করছে; আগামী ২৭শে জুন এটি চীনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) পরিচালিত ‘আল হামরা’ এবং সিনোপেক-এর চার্টার্ড করা সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী সুপারট্যাঙ্কার ‘ইগল ভেরোনা’ সফলভাবে এই সংকটপূর্ণ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া তাদের মালিকানাধীন ‘ইগল ভেরোনা’ সহ মোট সাতটি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য বিশেষ অনুমতি চেয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটি ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর পার হতে পেরেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রধান জ্বালানি কোম্পানিগুলো (যেমন- কাতার এনার্জি, অ্যাডনক বা সিনোপেক) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে হলেও জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত