অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট কেন এত জনপ্রিয়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট কেন এত জনপ্রিয়
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার একটি বিজ্ঞানসম্মত জীবনধারা। ছবি: ফ্রিপিক

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট’ বা প্রদাহরোধী খাদ্যাভ্যাস এখন একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এটি কেবল ওজন কমানোর কোনো সাময়িক মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার একটি বিজ্ঞানসম্মত জীবনধারা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অকাল বার্ধক্য রোধ, সবক্ষেত্রেই এই ডায়েটের কার্যকারিতা একে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কী?

প্রদাহ মূলত শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন শরীরে কোনো আঘাত লাগে বা জীবাণু প্রবেশ করে, তখন শরীর তাকে সারাতে প্রদাহের সৃষ্টি করে। একে বলা হয় ‘অ্যাকিউট ইনফ্ল্যামেশন’। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন এই প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয় (ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন)। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব শরীরকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের দিকে ঠেলে দেয়, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জনপ্রিয়তার প্রধান কারণগুলো-

  • বর্তমানে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাগুলো ঘরে ঘরে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ধমনীর ব্লক প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই ডায়েট অনুসরণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
  • মহামারি পরবর্তী বিশ্বে মানুষ এখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। এই ডায়েটে থাকা ফলমূল, শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
  • সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের প্রদাহের সাথে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ে এবং আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এটি মেজাজ ফুরফুরে রাখতেও সাহায্য করে।
  • যারা দীর্ঘকাল যৌবন ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ। এই ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
এই ডায়েট মেনে চলতে হবে বাদ দিতে হবে এমন সব লোভনীয় প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার। ছবি: ফ্রিপিক
এই ডায়েট মেনে চলতে হবে বাদ দিতে হবে এমন সব লোভনীয় প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার। ছবি: ফ্রিপিক

এই ডায়েটে যা থাকে

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাবারের সমন্বয়। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো-

  • রঙিন শাকসবজি ও ফল যেমন, টমেটো, পালং শাক, লেবুজাতীয় ফল, বেরি, চেরি, আপেল।
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অলিভ অয়েল, ঘি, বাদাম এবং চিয়া সিড।
  • সামুদ্রিক মাছ (ইলিশ, টুনা, সার্ডিন) যাতে ওমেগা-৩ থাকে।
  • হলুদ এবং আদা, যা প্রাকৃতিক প্রদাহরোধী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, চিনিযুক্ত পানীয়, পরিশোধিত আটা-ময়দা, অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া স্ন্যাকস, প্যাকেটজাত খাবার যেমন- বিস্কুট, চানাচুর, চিপস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন- বেকন, সালামি, সসেজ ইত্যাদি এই ডায়েটে বর্জন করা হয়।

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ হলো এটি কোনো ‘ক্রাশ ডায়েট’ নয়। এটি মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ দেখায়। শুধুমাত্র ওষুধ নির্ভর না থেকে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ভেতর থেকে সুস্থ থাকার এই বৈজ্ঞানিক উপায়টিই মানুষকে দিন দিন এর প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, জনস হপকিন্স মেডিসিন

সম্পর্কিত