Advertisement Banner

কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে গেলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানায়, ইরানে চালানো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তে এবার অপারেশন স্লেজহ্যামার নিয়ে আলোচনা করছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও বড় পরিসরে হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এই অপারেশন স্লেজহ্যামার শুরু হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি এই আলোচনার তথ্য সামনে আসায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও হরমুজ প্রণালির অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পেন্টাগনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। কারণ যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে তেহরান। তবে ইরান যে জবাব দিয়েছে সেটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

পাঁচটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন আলোচনায় অংশ নিতে অসম্মতি জানিয়েছে ইরান।

তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং ইরানি তেল বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেশটি তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক মাসের বেশি যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ওই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে আলোচনার সুযোগ অব্যাহত থাকে। এরই মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত