ইলহান গোল্ডেনবার্গ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানোর তিন সপ্তাহ পেরিয়েছে। পরিস্থিতি এখন বেশ বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানে যে যুদ্ধ চলছে তা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধগুলোর পরিস্থিতি থেকে বেশ ভিন্ন। কারণ আফগানিস্তান, ইরাক বা ভিয়েতনামের যুদ্ধের মতো এখনো এই যুদ্ধে ব্যাপক আকারে মার্কিন স্থলবাহিনী যুক্ত হয়নি।
তবে কৌশলগত দিক থেকে এই যুদ্ধের সঙ্গে আগের যুদ্ধগুলোর মিল রয়েছে। আবারও যুক্তরাষ্ট্র একটি তুলনামূলক দুর্বল আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু স্পষ্ট লক্ষ্য, বিজয়ের নির্দিষ্ট কৌশল বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর ফলাফল ভিন্ন এক ধরনের অচলাবস্থা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে বিমান ও নৌ অভিযানে আটকে যেতে পারে, যা মাস বা বছর ধরে চলতে পারে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেসামরিক মানুষের ওপর ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে পারে।
আগের যুদ্ধগুলোর মতো এখানেও অসম শক্তির লড়াইয়ে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষের সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয়ের অর্থ হতে পারে ব্যাপক ও অস্পষ্ট লক্ষ্য অর্জন-যেমন শাসন পরিবর্তন বা এমন একটি দুর্বল ইরান। যা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করতে বা বৈশ্বিক তেলবাজারে বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না।
অন্যদিকে ইরানের জন্য জয়ের অর্থ হতে পারে টিকে থাকা এবং মাঝেমধ্যে হামলার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করা বা উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা।
এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থাকে দ্রুত পতনের মুখে ঠেলে দিতে পারবে না। একইভাবে, এটি ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতাও পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারবে না, যাতে তেহরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত থাকে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উত্তেজনা বাড়ানোর পথে যেতে পারে। যেমন: স্থলবাহিনী ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা এলাকা দখল করা, কিংবা দেশের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন দেওয়া। তবে এসব পদক্ষেপের ঝুঁকি সম্ভাব্য লাভের তুলনায় অনেক বেশি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন অস্থির এবং মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত, তখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে-হঠাৎ করে শুরু করা এই যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে বেরিয়ে আসার উপায় খোঁজা।
বিজয়ের কোনো স্পষ্ট পথ নেই
শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশলে স্পষ্টতার অভাব দেখা গেছে। ট্রাম্প সামরিক অভিযান শুরু করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে প্রস্তুত করেননি কিংবা অর্জনযোগ্য কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি। গভীর রাতে দেওয়া তার প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান, যা কার্যত শাসন পরিবর্তনকেই সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করে।

এটি ছিল অত্যন্ত উচ্চ এবং সম্ভবত অর্জন করা কঠিন একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে এটি ইরানের নেতৃত্বের জন্য একটি সহজ পথ তৈরি করে দেয় যে টিকে থাকাই তাদের বিজয়।
প্রাথমিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ উল্টো ইরানে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। যদি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব মনে করে থাকে যে শীর্ষ ইরানি নেতাদের হত্যায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়বে, তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়া শাসনব্যবস্থার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ভেঙে পড়া বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যাওয়ার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা এখনো সংগঠিত এবং কমান্ড কাঠামো কার্যকর রয়েছে।
শাসনব্যবস্থা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা নেতৃত্বে আঘাত এলেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম। হামলা চালানোর ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, ফলে কমান্ডাররা নিহত হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু শাসনব্যবস্থার দখল শিথিল করার বদলে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। যুদ্ধের আগে ধারণা ছিল, তার স্বাভাবিক মৃত্যুর পর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর না এলেও, তুলনামূলক বাস্তববাদী নেতৃত্ব আসতে পারত, যারা আঞ্চলিক নীতি ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিত।
কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চরম চাপের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে কট্টরপন্থীরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এখন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যিনি কট্টরপন্থী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার নেতৃত্ব শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের নয়, বরং আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমলেও, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের সমর্থকরা এখনো মনে করেন, সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করা সম্ভব। শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী তুলনামূলক সীমিত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে-যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ শক্তি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করা।
তবে এই কৌশল অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মতোই একটি পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি। সেখানে দেখা গেছে, জনগণের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় সম্পূর্ণ ভূখণ্ড, শাসন ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়েছে। বিপরীতে তালেবান বা ইরাকের বিদ্রোহীরা শুধু লুকিয়ে থেকে সীমিত মাত্রায় সহিংসতা চালিয়েই বড় প্রভাব ফেলতে পেরেছে।
একই ধরনের বাস্তবতা এখন মধ্যপ্রাচ্যেও দেখা যাচ্ছে, যদিও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সাফল্য মানে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
অন্যদিকে ইরানের জন্য যথেষ্ট হতে পারে মাঝেমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো, জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানা বা সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো।
এমনকি যদি ৯০ শতাংশ হামলা প্রতিহতও হয়, বাকি ১০ শতাংশই বড় অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সফল হামলাই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ঝুঁকির ধারণা বদলে দিতে পারে।
এই যুদ্ধে ইরানের চূড়ান্ত জয় প্রয়োজন নেই বরং যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণ করাই তাদের জন্য যথেষ্ট। গত তিন সপ্তাহ ধরে ইরান ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেলেও, স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে তারা এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।
গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও তা দেখিয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করলেও, পরে দেখা যায় ইরান প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির ফাঁদ
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উত্তেজনা বাড়ানোর পথে যেতে প্রলুব্ধ হতে পারে। এরমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের ক্ষতি করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধে তেহরানকে বাধ্য করা, কিংবা সরাসরি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করার মতো বিষয় রয়েছে। অতীতে ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধেও দেখা গেছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সম্পদ ঢেলে দিয়ে জয় আদায়ের চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান ক্ষেত্রেও এসব বিকল্প খুব একটা আকর্ষণীয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করে পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় আঘাত হানার মাধ্যমে নিজেদের বিজয় দাবি করতে পারে। ট্রাম্প এই পথে এগোতে পারেন, বিশেষ করে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের টানেলে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করে। এতে অন্তত একটি স্পষ্ট কৌশলগত সাফল্য দেখানো সম্ভব হবে।

তবে এই অভিযান সহজ নয়। গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম গ্যাস আকারে বিশেষ কনটেইনারে সংরক্ষিত থাকে, যা সরানো কঠিন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিবহন করতে হয়। তাছাড়া আগের হামলায় টানেলের প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো কতটা প্রবেশযোগ্য, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা অভিযানের মতো দ্রুত কোনো অপারেশন হবে না, বরং এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা এমনকি দিনের পর দিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতি লাগতে পারে।
এ ছাড়া এটি ইরানের একদম ভেতরে অবস্থিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি এলাকা। ইরান আগে থেকেই এমন হামলার আশঙ্কা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিকতার সুবিধাও পাবে না। ফলে মার্কিন বাহিনীকে শত্রুভূমির গভীরে অবস্থান নিয়ে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হতে পারে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইরানি সেনা ঘিরে ফেলতে পারে। আবার এমন অভিযান বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন লক্ষ্য করা। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ, যেখান দিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ ইরানি তেল রপ্তানি হয়, সেটি দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই ধরনের হামলা সমুদ্র বা আকাশপথে চালানো সম্ভব হলেও এর ঝুঁকি অনেক। প্রথমত, এটি একটি বড় আকারের স্থল অভিযান, যেখানে শক্তভাবে সুরক্ষিত এলাকায় হামলা চালাতে হবে এবং মার্কিন বাহিনীর হতাহতের ঝুঁকি থাকবে। দ্বিতীয়ত, এতে ইরানের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এড়াতে চায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কৌশলগতভাবে এর লাভ কতটা হবে তা অনিশ্চিত। ধারণা করা হয়, অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কঠিন অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। বরং এমন পদক্ষেপের জবাবে তারা আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাও তার ইঙ্গিত দেয়। ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর ইরান কাতারের এলএনজি অবকাঠামোতে আঘাত হানে, যার ফলে উৎপাদন সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারগ দ্বীপে হামলা হলে আরও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামের প্রতি সংবেদনশীলতাও ভালোভাবে বোঝে ইরান। এমনকি বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে তাদের উদ্বেগকে স্পষ্ট করে। ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করা ইরানের জন্য একটি কার্যকর কৌশল।

আরেকটি বিকল্প হতে পারে স্থলবাহিনী ছাড়াই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো, যেমনটি ট্রাম্প ২২ মার্চ হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এতে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিও থাকবে। তাছাড়া এতে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে বরং ইরান পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরূপ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
যদি এসব কৌশল কার্যকর না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে-যেমন কুর্দি বা বালুচ গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন বিরোধী শক্তিকে সমর্থন দেওয়া। এমনকি আইআরজিসির ভেতরেও বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে।
কিন্তু এই পথ গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার ফল হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা। যেমনটি সিরিয়া ও লিবিয়াতে দেখা গেছে।
এ ক্ষেত্রে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিও জড়িয়ে পড়তে পারে। কুর্দি শক্তি বাড়লে নিশ্চুপ থাকবে না তুরস্ক, বালুচ ইস্যুতে উদ্বিগ্ন হবে পাকিস্তান, আর উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে পক্ষ নেবে। ফলে ইরানে অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।
ইসরায়েল হয়ত একটি বিভক্ত ইরানকে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক মনে করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি হবে এক দুঃস্বপ্ন। কারণ ইরান এমন একটি অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যার মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক ও পাকিস্তান রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ পতন ঘটলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হবে, আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যাহত হবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে।
সীমিত প্রস্থানের পক্ষে যুক্তি
যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি স্পষ্ট দ্বিধার মুখে। হয় অস্পষ্ট লক্ষ্য পূরণের আশায় আরও উত্তেজনা বাড়ানো, অথবা কৌশল পুনর্বিন্যাস করে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজা। বাস্তবসম্মত পথ হচ্ছে দ্বিতীয়টি।
ট্রাম্পে ঘোষণা করা উচিত যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের সীমিত লক্ষ্য (যেমন: ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা) মূলত অর্জন করেছে এবং আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানাতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং ভবিষ্যতে কেবল তখনই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সমর্থন করবে, যখন তেহরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করবে বা আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর আঘাত হানবে।
প্রথমদিকে ইরান এমন প্রস্তাব নাও গ্রহণ করতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা কমানোর অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপ তেহরানের ওপর বাড়তে পারে। চীন, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ, যাদের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থ রয়েছে- তারা সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে এবং ইরানকেও চাপ দিতে পারে।
অবশ্য এটিকে কোনো স্পষ্ট বিজয় বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে তখনো এই অঞ্চলে থাকতে হবে এবং একটি দুর্বল হলেও আরও আক্রমণাত্মক ইরানকে সামাল দিতে হবে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাবের কারণে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও স্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সম্পদ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তবে বিকল্প পথ-অর্থাৎ চূড়ান্ত সাফল্যের আশায় আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার ফল এর চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে, যেখানে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে প্রবেশ করলেও বেরিয়ে আসা কঠিন হয়েছে। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র বারবার উত্তেজনা বাড়িয়ে সাফল্য উদ্ধার করতে গিয়ে আরও জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
বর্তমান সংঘাতেও একই প্রলোভন রয়েছে। তবে এটিই সেই ধারা ভাঙার সুযোগও তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধ ছিল এমন একটি সিদ্ধান্ত যা নেওয়া হয়েছিল পরবর্তী পরিকল্পনা ছাড়াই। এখন সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হলো কোনো অনিশ্চিত বিজয় খোঁজা নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জীবনের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।
এর জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। এ ধরনের যুদ্ধে জয়ের আশায় এগিয়ে যাওয়া নয়, বরং কখন খরচ লাভের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে তা বুঝে সরে আসাই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পথ।
[যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত নিবন্ধটি বাংলায় অনূদিত। ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাময়িকী, যা বৈশ্বিক রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু গভীর বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
লেখক ইলহান গোল্ডেনবার্গ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জে স্ট্রিটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পলিসি অফিসার। ইলহান ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় প্রতিরক্ষা দপ্তরে ইরান বিষয়ক টিম প্রধান হিসেবে কাজ করেন।]

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানোর তিন সপ্তাহ পেরিয়েছে। পরিস্থিতি এখন বেশ বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানে যে যুদ্ধ চলছে তা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধগুলোর পরিস্থিতি থেকে বেশ ভিন্ন। কারণ আফগানিস্তান, ইরাক বা ভিয়েতনামের যুদ্ধের মতো এখনো এই যুদ্ধে ব্যাপক আকারে মার্কিন স্থলবাহিনী যুক্ত হয়নি।
তবে কৌশলগত দিক থেকে এই যুদ্ধের সঙ্গে আগের যুদ্ধগুলোর মিল রয়েছে। আবারও যুক্তরাষ্ট্র একটি তুলনামূলক দুর্বল আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু স্পষ্ট লক্ষ্য, বিজয়ের নির্দিষ্ট কৌশল বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর ফলাফল ভিন্ন এক ধরনের অচলাবস্থা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে বিমান ও নৌ অভিযানে আটকে যেতে পারে, যা মাস বা বছর ধরে চলতে পারে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেসামরিক মানুষের ওপর ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে পারে।
আগের যুদ্ধগুলোর মতো এখানেও অসম শক্তির লড়াইয়ে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষের সুবিধা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয়ের অর্থ হতে পারে ব্যাপক ও অস্পষ্ট লক্ষ্য অর্জন-যেমন শাসন পরিবর্তন বা এমন একটি দুর্বল ইরান। যা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করতে বা বৈশ্বিক তেলবাজারে বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না।
অন্যদিকে ইরানের জন্য জয়ের অর্থ হতে পারে টিকে থাকা এবং মাঝেমধ্যে হামলার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করা বা উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা।
এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থাকে দ্রুত পতনের মুখে ঠেলে দিতে পারবে না। একইভাবে, এটি ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতাও পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারবে না, যাতে তেহরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত থাকে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উত্তেজনা বাড়ানোর পথে যেতে পারে। যেমন: স্থলবাহিনী ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা এলাকা দখল করা, কিংবা দেশের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন দেওয়া। তবে এসব পদক্ষেপের ঝুঁকি সম্ভাব্য লাভের তুলনায় অনেক বেশি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন অস্থির এবং মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত, তখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে-হঠাৎ করে শুরু করা এই যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে বেরিয়ে আসার উপায় খোঁজা।
বিজয়ের কোনো স্পষ্ট পথ নেই
শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশলে স্পষ্টতার অভাব দেখা গেছে। ট্রাম্প সামরিক অভিযান শুরু করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে প্রস্তুত করেননি কিংবা অর্জনযোগ্য কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি। গভীর রাতে দেওয়া তার প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান, যা কার্যত শাসন পরিবর্তনকেই সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করে।

এটি ছিল অত্যন্ত উচ্চ এবং সম্ভবত অর্জন করা কঠিন একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে এটি ইরানের নেতৃত্বের জন্য একটি সহজ পথ তৈরি করে দেয় যে টিকে থাকাই তাদের বিজয়।
প্রাথমিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ উল্টো ইরানে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। যদি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব মনে করে থাকে যে শীর্ষ ইরানি নেতাদের হত্যায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়বে, তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়া শাসনব্যবস্থার জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ভেঙে পড়া বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যাওয়ার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা এখনো সংগঠিত এবং কমান্ড কাঠামো কার্যকর রয়েছে।
শাসনব্যবস্থা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা নেতৃত্বে আঘাত এলেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম। হামলা চালানোর ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, ফলে কমান্ডাররা নিহত হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু শাসনব্যবস্থার দখল শিথিল করার বদলে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। যুদ্ধের আগে ধারণা ছিল, তার স্বাভাবিক মৃত্যুর পর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর না এলেও, তুলনামূলক বাস্তববাদী নেতৃত্ব আসতে পারত, যারা আঞ্চলিক নীতি ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিত।
কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চরম চাপের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে কট্টরপন্থীরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এখন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যিনি কট্টরপন্থী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার নেতৃত্ব শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের নয়, বরং আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমলেও, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের সমর্থকরা এখনো মনে করেন, সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করা সম্ভব। শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী তুলনামূলক সীমিত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে-যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ শক্তি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করা।
তবে এই কৌশল অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মতোই একটি পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি। সেখানে দেখা গেছে, জনগণের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় সম্পূর্ণ ভূখণ্ড, শাসন ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়েছে। বিপরীতে তালেবান বা ইরাকের বিদ্রোহীরা শুধু লুকিয়ে থেকে সীমিত মাত্রায় সহিংসতা চালিয়েই বড় প্রভাব ফেলতে পেরেছে।
একই ধরনের বাস্তবতা এখন মধ্যপ্রাচ্যেও দেখা যাচ্ছে, যদিও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সাফল্য মানে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
অন্যদিকে ইরানের জন্য যথেষ্ট হতে পারে মাঝেমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো, জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানা বা সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো।
এমনকি যদি ৯০ শতাংশ হামলা প্রতিহতও হয়, বাকি ১০ শতাংশই বড় অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সফল হামলাই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ঝুঁকির ধারণা বদলে দিতে পারে।
এই যুদ্ধে ইরানের চূড়ান্ত জয় প্রয়োজন নেই বরং যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণ করাই তাদের জন্য যথেষ্ট। গত তিন সপ্তাহ ধরে ইরান ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেলেও, স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে তারা এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।
গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও তা দেখিয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করলেও, পরে দেখা যায় ইরান প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির ফাঁদ
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উত্তেজনা বাড়ানোর পথে যেতে প্রলুব্ধ হতে পারে। এরমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের ক্ষতি করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধে তেহরানকে বাধ্য করা, কিংবা সরাসরি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করার মতো বিষয় রয়েছে। অতীতে ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধেও দেখা গেছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সম্পদ ঢেলে দিয়ে জয় আদায়ের চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান ক্ষেত্রেও এসব বিকল্প খুব একটা আকর্ষণীয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করে পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় আঘাত হানার মাধ্যমে নিজেদের বিজয় দাবি করতে পারে। ট্রাম্প এই পথে এগোতে পারেন, বিশেষ করে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের টানেলে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করে। এতে অন্তত একটি স্পষ্ট কৌশলগত সাফল্য দেখানো সম্ভব হবে।

তবে এই অভিযান সহজ নয়। গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম গ্যাস আকারে বিশেষ কনটেইনারে সংরক্ষিত থাকে, যা সরানো কঠিন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিবহন করতে হয়। তাছাড়া আগের হামলায় টানেলের প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো কতটা প্রবেশযোগ্য, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা অভিযানের মতো দ্রুত কোনো অপারেশন হবে না, বরং এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা এমনকি দিনের পর দিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতি লাগতে পারে।
এ ছাড়া এটি ইরানের একদম ভেতরে অবস্থিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি এলাকা। ইরান আগে থেকেই এমন হামলার আশঙ্কা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিকতার সুবিধাও পাবে না। ফলে মার্কিন বাহিনীকে শত্রুভূমির গভীরে অবস্থান নিয়ে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হতে পারে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইরানি সেনা ঘিরে ফেলতে পারে। আবার এমন অভিযান বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন লক্ষ্য করা। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ, যেখান দিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ ইরানি তেল রপ্তানি হয়, সেটি দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই ধরনের হামলা সমুদ্র বা আকাশপথে চালানো সম্ভব হলেও এর ঝুঁকি অনেক। প্রথমত, এটি একটি বড় আকারের স্থল অভিযান, যেখানে শক্তভাবে সুরক্ষিত এলাকায় হামলা চালাতে হবে এবং মার্কিন বাহিনীর হতাহতের ঝুঁকি থাকবে। দ্বিতীয়ত, এতে ইরানের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এড়াতে চায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কৌশলগতভাবে এর লাভ কতটা হবে তা অনিশ্চিত। ধারণা করা হয়, অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কঠিন অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। বরং এমন পদক্ষেপের জবাবে তারা আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাও তার ইঙ্গিত দেয়। ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর ইরান কাতারের এলএনজি অবকাঠামোতে আঘাত হানে, যার ফলে উৎপাদন সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারগ দ্বীপে হামলা হলে আরও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামের প্রতি সংবেদনশীলতাও ভালোভাবে বোঝে ইরান। এমনকি বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে তাদের উদ্বেগকে স্পষ্ট করে। ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করা ইরানের জন্য একটি কার্যকর কৌশল।

আরেকটি বিকল্প হতে পারে স্থলবাহিনী ছাড়াই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো, যেমনটি ট্রাম্প ২২ মার্চ হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এতে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিও থাকবে। তাছাড়া এতে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে বরং ইরান পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরূপ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
যদি এসব কৌশল কার্যকর না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে-যেমন কুর্দি বা বালুচ গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন বিরোধী শক্তিকে সমর্থন দেওয়া। এমনকি আইআরজিসির ভেতরেও বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে।
কিন্তু এই পথ গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার ফল হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা। যেমনটি সিরিয়া ও লিবিয়াতে দেখা গেছে।
এ ক্ষেত্রে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিও জড়িয়ে পড়তে পারে। কুর্দি শক্তি বাড়লে নিশ্চুপ থাকবে না তুরস্ক, বালুচ ইস্যুতে উদ্বিগ্ন হবে পাকিস্তান, আর উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে পক্ষ নেবে। ফলে ইরানে অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।
ইসরায়েল হয়ত একটি বিভক্ত ইরানকে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক মনে করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি হবে এক দুঃস্বপ্ন। কারণ ইরান এমন একটি অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যার মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক ও পাকিস্তান রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ পতন ঘটলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হবে, আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যাহত হবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে।
সীমিত প্রস্থানের পক্ষে যুক্তি
যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি স্পষ্ট দ্বিধার মুখে। হয় অস্পষ্ট লক্ষ্য পূরণের আশায় আরও উত্তেজনা বাড়ানো, অথবা কৌশল পুনর্বিন্যাস করে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজা। বাস্তবসম্মত পথ হচ্ছে দ্বিতীয়টি।
ট্রাম্পে ঘোষণা করা উচিত যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের সীমিত লক্ষ্য (যেমন: ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা) মূলত অর্জন করেছে এবং আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানাতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং ভবিষ্যতে কেবল তখনই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সমর্থন করবে, যখন তেহরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করবে বা আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর আঘাত হানবে।
প্রথমদিকে ইরান এমন প্রস্তাব নাও গ্রহণ করতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা কমানোর অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে আন্তর্জাতিক চাপ তেহরানের ওপর বাড়তে পারে। চীন, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ, যাদের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থ রয়েছে- তারা সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে এবং ইরানকেও চাপ দিতে পারে।
অবশ্য এটিকে কোনো স্পষ্ট বিজয় বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে তখনো এই অঞ্চলে থাকতে হবে এবং একটি দুর্বল হলেও আরও আক্রমণাত্মক ইরানকে সামাল দিতে হবে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাবের কারণে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও স্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সম্পদ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তবে বিকল্প পথ-অর্থাৎ চূড়ান্ত সাফল্যের আশায় আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার ফল এর চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে, যেখানে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে প্রবেশ করলেও বেরিয়ে আসা কঠিন হয়েছে। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র বারবার উত্তেজনা বাড়িয়ে সাফল্য উদ্ধার করতে গিয়ে আরও জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
বর্তমান সংঘাতেও একই প্রলোভন রয়েছে। তবে এটিই সেই ধারা ভাঙার সুযোগও তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধ ছিল এমন একটি সিদ্ধান্ত যা নেওয়া হয়েছিল পরবর্তী পরিকল্পনা ছাড়াই। এখন সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হলো কোনো অনিশ্চিত বিজয় খোঁজা নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জীবনের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।
এর জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। এ ধরনের যুদ্ধে জয়ের আশায় এগিয়ে যাওয়া নয়, বরং কখন খরচ লাভের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে তা বুঝে সরে আসাই সবচেয়ে দায়িত্বশীল পথ।
[যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত নিবন্ধটি বাংলায় অনূদিত। ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাময়িকী, যা বৈশ্বিক রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু গভীর বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
লেখক ইলহান গোল্ডেনবার্গ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জে স্ট্রিটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পলিসি অফিসার। ইলহান ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় প্রতিরক্ষা দপ্তরে ইরান বিষয়ক টিম প্রধান হিসেবে কাজ করেন।]