মালয়েশিয়ার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে দক্ষ পেশাজীবীর উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটিতে বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং।
আজ বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিন টং বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইসলামি অর্থায়ন সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য উন্নয়ন এবং আরও কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি মডেল হতে পারে।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫৭ কোটি ডলার।
তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই মুসলিম-প্রধান দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সরকার আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশ নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তাসকিন আহমেদ মালয়েশিয়া সরকারকে দেশটির উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) খাত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল। “মডেলটি এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি মালয়েশিয়ার জন্যও একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।”
তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজার।
এই বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।