Advertisement Banner

রাতের খাবার দেরিতে খেলে কেন বাড়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাতের খাবার দেরিতে খেলে কেন বাড়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি?
কিডনি সুস্থ রাখতে রাতের খাবারের সময় ঠিক রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

কিডনি আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে বের করে দেয়। এছাড়া শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় (মেটাবলিক) কাজ সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখে।

পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খাওয়ার সময় আমাদের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার সময়। ভালো বিপাকীয় স্বাস্থ্য কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

রাতে দেরিতে খেলে কী ঘটে?

রাতে দেরিতে খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। ঘুমানোর খুব কাছাকাছি সময়ে বেশি খাবার খেলে শরীরের ‘সারকেডিয়ান রিদম’ বা ‘জৈবিক ঘড়ি’ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এই ঘড়ি আমাদের হজম, হরমোন এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে।

দেরিতে খাওয়ার কারণে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না। এতে ওজন ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং ইনসুলিনের সমস্যা হতে পারে। এসব সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ভারতের রুবি হল ক্লিনিকের কনসালট্যান্ট ইউরো-অঙ্কোলজিস্ট এবং রোবোটিক সার্জারির ডিরেক্টর ড. হিমেশ গান্ধী হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সন্ধ্যায় আগেভাগে খাবার খেলে ঘুমানোর আগে শরীর খাবার ঠিকভাবে হজম করার সময় পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রাতে দেরিতে ভারী খাবার খেলে রক্তে শর্করা ও ট্রাইগ্লিসারাইডসের (এক ধরণের চর্বি) মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে।

ডিনার করতে হবে রাতে ঘুমানো অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে। ছবি: পেক্সেল ডট কম
ডিনার করতে হবে রাতে ঘুমানো অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে। ছবি: পেক্সেল ডট কম

এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললে ওজন বেড়ে যাওয়া, টাইপ–২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। এসব সমস্যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে।

কিডনি ভালো রাখতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখা জরুরি। রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে কিডনির ক্ষতি কম হয়। তাই খাবারের সময় ঠিক রাখা, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং সুষম খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে কিডনি সুস্থ রাখা যায়?

ডা. হিমেশের মতে, সম্ভব হলে ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হয় এবং শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

খাবারের ক্ষেত্রে সবজি, হোল গ্রেইন, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি— এসব দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট অনুসরণ করা ভালো। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।

এছাড়া দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। তবে কারও যদি কিডনি রোগ থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করতে হবে।

কিডনি ও শরীর বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস খুব জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম করা, শরীরের ওজন ঠিক রাখা, অপ্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ না খাওয়া এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা কিডনির জন্য ভালো।

ডা. হিমেশ বলেন, “সবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। এতে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কিডনির অবস্থা আগে থেকেই জানা যায়, ফলে সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”

যদিও কোনো একক খাবার কিডনিকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে পারে না, তবে আমরা কখন এবং কীভাবে খাই— এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে এবং কিডনিও সুস্থ থাকে।

নিত্যদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সম্পর্কিত