বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেমিনারে আঞ্চলিক গানের অনন্য শিল্পী শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, বহুমাত্রিক নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও গবেষক আহমদ রফিক এবং কবি ও জ্যোতির্বিদ খনার জীবন ও কর্মের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সেমিনার সিরিজে স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওয়াল খান। বিভিন্ন অধিবেশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা—উপসচিব মো. খালিদ হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব হোসনে আরা বেগম এবং যুগ্মসচিব মিজ্ ইলয়া সুমনা, কাজী হোসনে আরা ও আইরিন ফারজানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট কবি ও চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান জানান, ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বাংলা ভাষার চর্চার জন্য আজীবন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সর্বস্তরে বাংলা চালু না হওয়া পুরো জাতির জন্য দুঃখজনক। কবি মোহন রায়হান আহমদ রফিকের আক্ষেপকে ধারণ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আইনসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন তামান্না রহমান জানান, নতুন প্রজন্ম মহান নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীকে চেনে না। তার কর্ম রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে ডকুমেন্টারি ও আর্কাইভ তৈরি এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমিকে পূর্বের গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। গবেষক ও নাট্যকার ড. সাইমন জাকারিয়া দেশের আধুনিক কৃষিবিন্যাসে খনার লোকজ্ঞানের সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সমাপনী অধিবেশনে যুগ্মসচিব আইরীন ফারজানা আগামী দিনের সেমিনারগুলোতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ৩ দিনব্যাপী এই নান্দনিক ও প্রাণবন্ত আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন কবি মোহন রায়হান, সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, নৃত্যশিল্পী কবিরুল ইসলাম রতনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি মনির ইউসুফ ও কবি নাহিদ হাসান নলেজ।