রাতে দুইবার খেলে কী হয়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাতে দুইবার খেলে কী হয়
রাতে দুই দফা খাওয়ার কারণে অজান্তেই ক্যালোরি বেড়ে যায়। ছবি: ফ্রিপিক

বর্তমানে কমবেশি সবাই স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন। প্রায়ই অনেককে বলতে শোনা যায়, রাতের খাবার দ্রুত খেয়ে নেওয়া উচিত। তবে মূল বিষয়টি প্রায়ই মনোযোগ এড়িয়ে যায়, সেটি হলো সময়।

কারণ সন্ধ্যা ৭টায় রাতের খাবার খেয়ে যদি রাত ১টা পর্যন্ত জেগে থাকেন, তবে আবার ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তখন অনেকেই দ্বিতীয় দফা খাবার খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাসটি হালকা মনে করলেও ধীরে ধীরে এটি ক্ষুধার সংকেত, ঘুমের মান এবং এমনকি ওজনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন আগেভাগে রাতের খাবার খাওয়া অনেক সময় ‘ডাবল ডিনার’-এ পরিণত হয়, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে তা ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের থানেতে অবস্থিত কিমস হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ডা. আমরিন শেখ।

রাতে একবার খাওয়ার পর কেন আবার ক্ষুধা পায়?

ডা. আমরিন বলেন, রাতের খাবার ও ঘুমাতে যাওয়ার সময়ের মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান থাকলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই আবার ক্ষুধার সংকেত দেয়। কারণ আপনি যা খেয়েছেন তা থেকে পাওয়া শক্তির বড় অংশ তখন ব্যবহৃত হয়ে যায়। এ সময় যদি কেউ সিরিজ দেখে, কাজ করে বা মোবাইলে স্ক্রল করতে থাকে, মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির উৎস চায়। তখনই নাস্তা বা আরেক দফা ‘মিনি ডিনার’-এর লোভ বাড়ে।

রাতে দুই দফা খাওয়ার কারণে অজান্তেই ক্যালোরি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন ডা. আমরিন। তিনি বলেন, “দিন শেষের দিকে হজম প্রক্রিয়ার গতি কমে যায়। অতিরিক্ত খাবার তখন শরীরে জমা হতে থাকে, ব্যবহার হয় কম। এতে পেট ফাঁপা, ঘুমের ব্যাঘাত, অ্যাসিডিটি এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, ফলে বেশি রাতে শরীর খাবার প্রত্যাশা করতে শুরু করে।”

এই চক্র একবার শুরু হলে সেটি ভাঙা অনেক কঠিন হয়ে যায় বলেও সতর্ক করেছেন এই পুষ্টিবিদ।

তাহলে কী রাতে দ্রুত খাওয়ার আইডিয়া ভালো নয়?

ডা. আমরিন বলেছেন, বিষয়টি একমদই এমন নয়। আপনি যদি ঠিকঠাক সময়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে রাতের খাবার দ্রুত খেয়ে নেওয়াই ভালো। সমস্যা তখন শুরু হয়, যখন আপনার খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাওয়ার মধ্যে ব্যবধান তিন ঘণ্টার বেশি হয়ে যায়।

আগেভাগে খেয়ে দেরিতে ঘুমানো মানে মাঝরাতে আবার ক্ষুধার বোতাম টিপে দেওয়া। ছবি: ফ্রিপিক
আগেভাগে খেয়ে দেরিতে ঘুমানো মানে মাঝরাতে আবার ক্ষুধার বোতাম টিপে দেওয়া। ছবি: ফ্রিপিক

আগেভাগে খেয়ে দেরিতে ঘুমানো মানে মাঝরাতে আবার ক্ষুধার বোতাম টিপে দেওয়া। তাই রাতে আগেই খেতে হবে, এই স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম না মেনে বরং প্রত্যেকের রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে খাওয়ার সময় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আমরিন।

খাওয়ার ‘উপযুক্ত সময়’ কখন?

ডা. আমরিন বলেন, ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। এতে পেট খাবার হজমের যথেষ্ট সময় পায়, আবার অতিরিক্ত ক্ষুধাও লাগে না।

তার ভাষ্য, “আপনি রাত ১০টায় ঘুমান বা ১২টায়, এই তিন ঘণ্টার ব্যবধান একই থাকে। এটি নমনীয়, বাস্তবসম্মত এবং অযথা খুব আগেভাগে খেতে বাধ্য করে না।”

কী মনে রাখা উচিত?

রাতের খাবার সুষম হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে যেন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যাতে খাবারে তৃপ্তি আসে। ঘুমের সময় এমনভাবে ঠিক করা উচিত, যাতে খাবারের সঙ্গে খুব বড় ব্যবধান না তৈরি হয়।

তাছাড়া খাওয়ার পরে রুটিনে বই পড়া, বিশ্রাম, স্কিন কেয়ার বা হালকা কাজ রাখা যেতে পারে। ডিনারের পর নাস্তা, এমনকি সামান্য কোনো খাবার খাওয়াও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন ডা. আমরিন, কারণ সেটিই অভ্যাসটিকে টিকিয়ে রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরকে এমন একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা, যেখানে পেটের চাহিদা ও ঘুমের সময়সূচি একসঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে।

সম্পর্কিত