কোনো দলের নেতাকর্মীই যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে কারাগারে বা আটক না থাকেন, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড হচ্ছে যে আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট আছি। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নেতাকর্মী, কেউ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে কারাগারে বা আটক না থাকেন, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের অবস্থান।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, “কোনো দল... বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, যে দলেরই হোক, অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিশোধের কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে না থাকে, আটক না থাকে, সেটা অবশ্যই বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।”
বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকাল ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিরা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর নেতাকর্মীরা।
“সুতরাং আমরা কখনোই চাইব না যে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমলটা ফেরত আসুক। আমরা চাই সকল মানবাধিকার... মিনিমাম (ন্যূনতম) মানবাধিকার যেন প্রত্যেকটি নাগরিককে এনশিওর (নিশ্চিত করা) করা হয়,” বলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনিদের বিরুদ্ধে এবং গুম-খুনের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই আইনগতভাবে যথাযথ।
তবে এর বাইরে ‘অতি উৎসাহী’ হয়ে অনেকে কিছু মামলা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব মামলা আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জানিয়েছে, মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো মামলায় সত্যতা বা যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া না যায়, তাহলে সেগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।