Advertisement Banner

আবার ফাইনালে বাংলাদেশ, সামনে এবার ভারত?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আবার ফাইনালে বাংলাদেশ, সামনে এবার ভারত?
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা টানা তৃতীয়বার উঠে গেল সাফের ফাইনালে। ছবি: বাফুফে

গোলটা সাগরিকার বলে প্রথমে মনে হয়েছিল। পরে রিপ্লেতে দেখা গেল, সাগরিকার নয়, নেপালের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগেই বল জালে ঢুকেছে।

তাতে কী! বাংলাদেশের তখন ওসব নিয়ে ভাবার সময় কোথায়! বাংলাদেশ তখন উদ্‌যাপনে মাতোয়ারা। একটু শঙ্কাও ছিল তখন, যোগ করা সময়ের আরও কিছুক্ষণ বাকি, সে সময়টুকুতে গোল ঠেকিয়েও তো রাখতে হবে!

দারুণভাবেই তা করে ফেললেন বাংলাদেশের মেয়েরা! গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফের ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। টানা তৃতীয়বার!

আগের দুবারই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। দুবারই নেপালের মাঠে স্বাগতিকদের হারিয়ে। এবার টানা তৃতীয় সাফ ট্রফির খোঁজে বাংলাদেশ কি আবার স্বাগতিক দলকেই পাবে? অন্য সেমিফাইনালে ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকা ভুটানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত।

কর্নার থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা। ছবি: বাফুফে
কর্নার থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা। ছবি: বাফুফে

৪-৪-২ ছকে নামা বাংলাদেশ আজ শুরু থেকেই অবশ্য চাপে ছিল। আক্রমণে দাপট ছিল নেপালের মেয়েদের। ২৩ মিনিটে কর্নার থেকে গীতার গোলে নেপাল এগিয়েও যায়।

প্রমাদ গুণছিল তখন বাংলাদেশ। একে তো দলের খেলা ঠিক জমছে না, তারওপর গোলও খেয়ে গেল! ৩৬ মিনিটে প্রীতি রাজের শট পোস্টে লেগে না ফিরলে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় ধাক্কাই হতো।

ম্যাচ যখন এমন এলোমেলো, দল যখন অনেকটা অসহায়, এমন মুহূর্তগুলোতে একটা দল খোঁজে অনুপ্রেরণা। একটা চমকে দেওয়া মূহুর্ত, একটা হিসাব বদলে দেওয়া ক্ষণ…।

বিরতির ঠিক আগে তেমনই একটা মুহূর্তের জন্ম দিলেন ঋতুপর্ণা। টুর্নামেন্টেরই সেরা গোলের দাবি তোলার মতো এক গোল করে বসলেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। সাফ কেন, যেকোনো পর্যায়ের ফুটবলেই এমন গোল খুব বেশি একটা দেখা যায় না – অলিম্পিক গোল! কর্নার থেকে বল সরাসরি জালে!

এর আগ পর্যন্ত ঋতুপর্ণাকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই ঋতুপর্ণাই নেপালকে ভড়কে দিলেন, সব হিসাব বদলে দিলেন একটা বাঁকানো শটে। নেপালের গোলকিপার শটটা যেন বুঝতেই পারলেন না! বিরতিতে স্কোরলাইন - বাংলাদেশ ১: ১ নেপাল।

বিরতিটা অবশ্য বুঝি ভুল সময়েই এসে গেছে বাংলাদেশের জন্য! ১৫ মিনিটের ওই 'ব্রেক'টাতে ছন্দ নষ্ট হলো, দ্বিতীয়ার্ধে যা খুঁজে পেতে আবার কিছুটা সময় নষ্ট হলো বাংলাদেশের। উল্টোদিকে নেপাল নামে নতুন উদ্যম নিয়ে। সম্ভবত আগের দুই ফাইনালেই হারের স্মৃতি তাতিয়ে দিচ্ছিল তাদের।

বিরতি থেকে ফিরেই একবার গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল নেপাল, পারেনি পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ানোয়। এরপর দুই দলই আক্রমণ করেছে, তবে ৭০তম মিনিটে বাংলাদেশ আবার বেঁচে যায় নেপালের সারুর শট পোস্ট উঁচিয়ে যাওয়ায়।

৭৮ মিনিটে সাগরিকা বাংলাদেশকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেলেও সেটা কাজে লাগাতে পারলেন না। নেপালি গোলকিপার দাঁড়ান বাধা হয়ে। ম্যাচের বাকি থাকা সময় তখন কমে আসছে, বাড়ছে চাপ।

সাগরিকার পা থেকে না হলেও তাঁর কারণেই দ্বিতীয় গোলটা পেয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে
সাগরিকার পা থেকে না হলেও তাঁর কারণেই দ্বিতীয় গোলটা পেয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

৯০ মিনিট শেষ হলো, বাড়তি ৬ মিনিট সময় দিলেন রেফারি – যদিও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় ৮-৯ মিনিটে গড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে উচ্ছ্বাসে ভাসানো মুহূর্তটা এল তৃতীয় মিনিটে। দারুণভাবে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সামসুন্নাহার জুনিয়র। গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে বোকা বানালেন হঠাৎ গতির বদলে। ছয় গজের বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি পাস বাড়ালেন সাগরিকার দিকে, যাঁকে আটকাতে ততক্ষণে দুই পাশে দুই ডিফেন্ডার। কিন্তু সাগরিকার পজিশনিংয়ের কারণেই হোক, বা নিজেদের তাড়াহুড়ায়, তিন খেলোয়াড়ের ছয় পায়ের দঙ্গলের মধ্যে বলটা নেপালের এক ডিফেন্ডারেরই শেষ স্পর্শ পেয়ে ঢুকে গেল জালে!

বাংলাদেশের তখন অতটুকুতেই স্বস্তি। অতটুকুতেই উচ্ছ্বাস। কার পায়ে লেগে ঢুকল তাতে কী আসে যায়, বল জালে ঢুকেছে এটাই মূল কথা!

বাংলাদেশ ফাইনালে উঠেছে, এটাই মূল কথা। আপাতত, ফাইনালের আগ পর্যন্ত।

সম্পর্কিত