ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমে অঁদ অঞ্চলের একটি গ্রামের ওপর দিয়ে সোমবার রাতে একটি টর্নেডো বয়ে যায়। এতে বাড়িঘর ধ্বংস এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে বিরল ও অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছে।
কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পোমাস গ্রামের প্রায় ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসিন্দাদের সবাইকে গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাড়িগুলোতে বসবাস করা এখনো নিরাপদ কি না, তা কর্তৃপক্ষ যাচাই করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পোমাসের বাসিন্দা সেভেরিন বিএফএম টিভিকে বলেন, “মনে হচ্ছিল যেন মৃত্যু নিজেই আমাদের ওপর নেমে আসছে।”
সেভেরিন তার পদবি প্রকাশ করেননি। মঙ্গলবার টর্নেডোতে পুরোপুরি বিধ্বস্ত নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তার পরিবার যে গাড়িতে উঠে পালানোর চেষ্টা করছিল, টর্নেডোর আঘাতে সেটিও কেঁপে উঠেছিল। পরে তারা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
“আমরা পালিয়ে গিয়েছিলাম, এটা ছিল বাঁচার তাগিদ,” বলেন তিনি।
এ সময় লোকজন চার সদস্যের ওই পরিবারটিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজে বের করতে সহায়তা করছিল।
রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতেও দেখা গেছে, সোমবার রাতে অঁদ অঞ্চলের কাছের ভারজেই গ্রামের ওপর টর্নেডো ঘুরপাক খাচ্ছে। টর্নেডোর পথে পড়া অনেক বাড়ির জানালা ভেঙে গেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় চলতি সপ্তাহে বজ্রঝড় শুরু হওয়ার সময়ই টর্নেডোটি আঘাত হানে। এর আগে এই গ্রীষ্মে অঞ্চলটিতে তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করছিল।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালেও ওই এলাকার ১ হাজার ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
কর্মকর্তা মারি-হেলেন বুইসাক সাংবাদিকদের বলেন, “এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং সব বাসিন্দার জন্যই এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
ফ্রান্সে বছরে কয়েক ডজন টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তা অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর এক হাজারেরও বেশি টর্নেডো রেকর্ড করা হয়। ফ্রান্সে টর্নেডোগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হয় বলে দেশটির সরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে।