ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানিয়েছি। সেখানে রাশিয়ার অগ্রগতি খুবই সীমিত এবং এর জন্য তাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি হামলাগুলোর বিষয়েও তাদের অবহিত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত কী অর্জন করতে পারেন, তা আমরা দেখব। সেপ্টেম্বর মাসে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। আর জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যা কিছু করা সম্ভব, তার সবই করতে হবে।”
একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থেই এই যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। পুতিন মোদিকে বলেন, মস্কো “এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে”।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই দেশেই হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানীতে এটি টানা ষষ্ঠ দিনের রুশ হামলা।
জরুরি সেবা বিভাগ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কিয়েভে আটজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুনও ছড়িয়ে পড়ে।
কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ও একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো।
কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার প্রতিদিনের হামলায় লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকা এবং জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চালানো এক হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে দানিউব নদীর তীরে অরলিভকা সীমান্তপথ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে রাশিয়ায় একটি ড্রোন হামলায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায়। মস্কোতেও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
অঞ্চলটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে এবং সেখানে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে।