তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভার শুরুতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. শফিক উদ্দীন।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, তুরস্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংখ্যায় ছোট হলেও প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রত্যেক প্রবাসীর প্রথম দায়িত্ব হলো তুরস্কের আইন, বিধিবিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নিজেদের আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রচারণা বা বক্তব্য প্রচার ও সমর্থন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রদূত চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বিশেষভাবে কিডনি প্রতিস্থাপনসংক্রান্ত প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। মিথ্যা আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করলে তুরস্কের আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং অন্য আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী নাগরিকদের জন্য এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি তুরস্কে প্রচলিত কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা বাংলাদেশ–তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ; তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা সহজতর করা; বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্পখাত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং তুরস্কের টেকনোপার্ক ধারণা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন; তুর্কি নির্মাতাদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিষয়ক আর্ট ফিল্ম নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ; প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা বিনিময়; তুরস্কে পণ্য পরিবহনের লিড টাইম কমানো; বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে অধিকসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে দেশের পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানো।
এ ছাড়া, দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বাংলাদেশ–তুরস্ক বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, যৌথ উদ্যোগ ও বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা এবং বিজনেস-টু-বিজনেস যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূতাবাস কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে প্রবাসীদের অবহিত করেন।
মতবিনিময় সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তুরস্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।