স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ফ্রুতাসের কর্মকর্তা–কর্মীদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। সম্প্রতি মাদ্রিদের একটি লেকের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা-কর্মীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত মিলনমেলায় ছিল উৎসবের আমেজ। মিলনমেলায় সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ষসেরা কর্মীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নির্বাচিত কর্মীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানির চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া এবং আবু বকর ঢাকা ফ্রুতাসের ২০ বছরের পথচলা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে তারা ঢাকা ফ্রুতাসের পথচলার বিভিন্ন স্মরণীয় অধ্যায়ের কথা স্মরণ করেন। দুই দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় সহকর্মীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও পরিশ্রমকে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা ফ্রুতাসের চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া বাংলাদেশি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রবাসে নিজের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে আসছে।
ঢাকা ফ্রুতাস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন। প্রবাসে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। তারা প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সাফল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কমিউনিটির উন্নয়নে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা–কর্মী এবং কমিউনিটি নেতাদের অংশগ্রহণে মিলনমেলাটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনোৎসবে। হাসি-আনন্দ, গল্প, স্মৃতিচারণ, পুরস্কার প্রদান ও পারস্পরিক শুভেচ্ছায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
২০ বছরের গৌরবময় পথচলা উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ফ্রুতাসের এই মিলনমেলা শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি ছিল কর্মীদের অবদানকে সম্মান জানানো, অতীতের স্মৃতিকে ধারণ করা এবং ভবিষ্যতের পথে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য প্রত্যয়।