চলতি মাসের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে অবস্থানকালে ইরানি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হন। পেন্টাগন এই ঘটনার বিষয়ে কোন বিবরণ দেয়নি এবং ইরানের সাথে যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ও ব্যয়ের পরিমাণ কম করে দেখাচ্ছে কি না- তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। মার্কিন টিভি চ্যানেল এনবিসি নিউজ গতকাল রোববার এ তথ্য প্রকাশ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা এনবিসিকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সময় ওই মেরিন সেনারা (যাদের মধ্যে সাতজন সাধারণ সদস্য ও একজন কর্মকর্তা ছিলেন) একটি ‘ল্যান্ডিং টিম’ বা অবতরণকারী দলের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট এবং সম্ভবত মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় (ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি) ভুগেছেন। তবে তাদের কেউই গুরুতর আহত হননি।
এনবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, মেরিন সেনারা কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ছিলেন না, তবে তারা জাহাজটির ধরন সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেনি। পেন্টাগন এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সংঘাতের সময় আহত ও নিহতদের তথ্য নথিবদ্ধ করার ডেটাবেসে ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ এই মেরিন সেনাদের নাম যুক্ত করতে তাদের প্রায় ১০ দিন সময় লেগেছিল।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে আহত মার্কিন সেনার স্বীকৃত সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬১-তে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সেনাকে ইরানের বিরুদ্ধে চলা অজনপ্রিয় যুদ্ধের পরিবর্তে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বা ‘বিদেশে অভিযান’ -এর হতাহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্টও জানিয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন; অথচ সেই সময় পেন্টাগন মাত্র ১৮ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন কি ইচ্ছাকৃতভাবে হতাহতের সংখ্যা কম করে দেখাচ্ছিল, নাকি আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে এই গরমিল দেখা দিয়েছে- তা অস্পষ্ট থাকলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই প্রতিবেদনকে ‘ঘৃণ্য ও ভুয়া’ বলে অভিহিত করেন।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি এই সংঘাতের আর্থিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের খরচ প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার; তবে পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা মেরামতের সম্ভাব্য বিশাল ব্যয়ের বিষয়টি এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পেন্টাগনের মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জুলাই মাসে এনবিসি জানিয়েছিল যে, মার্কিন ঘাঁটি মেরামত, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান প্রতিস্থাপন এবং অস্ত্রের মজুদ পুরোপুরি পূরণ করার খরচ হিসাব করলে মোট ব্যয় ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।