ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এ ঘোষণা এলো। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় গতকাল রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি টেলিভিশনে বলেছেন, দেশকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ’ থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনী এই অভিযান চালিয়ে যাবে। পরে দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র হুতিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান।
আল-আলিমি বলেন, সংঘাত কমানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই পাল্টা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি বাহিনী আকাশপথে এবং ইয়েমেনি বাহিনী স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে।
সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর অভিযানকে সহায়তা করতে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকটি আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।
গত মাসে আকস্মিকভাবে অভিযান শুরু করেছিল হুতিরা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূল দখল করে নেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথটির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
হুতিদের এই অগ্রগতির কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এই অভিযানের ঘোষণার পরপরই হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদির রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুতিদের দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।