দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই-দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে দুই পাইলটের মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে উড়োজাহাজটি। খবর বিবিসি বাংলার।
ফ্লাই-দুবাইয়ের উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর জরুরি সংকেত পাঠায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যেও বিমানটির উচ্চতায় হঠাৎ পতনের বিষয়টি দেখা যায়। ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্ধারিত পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং এর পরিবর্তে সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
অবতরণের পর, স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া যাত্রীদের বিবরণে বিমানের ককপিটে ছুরিকাঘাতের ঘটনার কথা উঠে আসে।
ঘটনার পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ছুরিকাঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন যাত্রী ও একজন ক্রু সদস্য ককপিটে প্রবেশ করে যে পাইলট ছুরিকাঘাত করেছিল তাকে কাবু করেন। ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলেও জানান নেতানিয়াহু।
তাবুক বিমানবন্দর জানিয়েছে, বিমানের ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের আঘাতের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।ফ্লাই-দুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটটির ডেকে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং সব যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।
ফ্লাইটটিতে অন্তত ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। যাত্রীদের প্রায় সব ইসরায়েলি নাগরিক বলে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
কয়েক মিনিট পর বিমানটি জরুরি কোড, স্কোয়াক ৭৭০০, পাঠায় এবং পরে সেটি পরিবর্তন করে ছিনতাইয়ের সংকেত নির্দেশক স্কোয়াক ৭৫০০ পাঠায়।
৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি অল্প সময়ের জন্য জর্ডানের আকাশসীমায় ঘুরে আবার সৌদি আরবে ফিরে আসে। এরপর সেটি অবতরণের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিচে নামতে শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি বেঁধে গিয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ, জরুরি সেবা বিভাগ বা তদন্তকারীদের কাছ থেকে বিবিসি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পায়নি।