দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে ভারত। আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত (এগ্রিমেন্ট) প্রদান করে। বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
আসাদ আলম সিয়াম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র ক্যাডার)-এ যোগ দেন। নয়াদিল্লিতে তিনি বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সিয়ামের নিয়োগের জন্য ভারতের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে সম্মতি আটকে রাখার যে জল্পনা চলছিল, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটল।
এদিকে, আসাদ আলম সিয়ামের জায়গায় বাংলাদেশের পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাচ্ছেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসাদ আলম সিয়ামের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্র সচিব হওয়ার আগে তিনি এক বছরের কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২৩-২০২৪ মেয়াদে অস্ট্রিয়া এবং ২০১৭-২০২১ মেয়াদে ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এছাড়া ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধান মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জটিল প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং সম্ভাব্য শীর্ষ পর্যায়ের সফরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করাই হবে নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের মূল চ্যালেঞ্জ।