যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রবেশে তাদের সাংবাদিকদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এই মামলা করা হয়। খবর বিবিসির।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠান তার প্রশাসন নিয়ে ‘মনগড়া কথা বা মিথ্যা’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, শনিবার তাদের সাংবাদিকদের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে বা প্রকাশ করবে, তা সরকার নির্ধারণ করতে পারে না-এই নীতি রক্ষার চেষ্টা করছে তারা।
এরপর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক হোয়াইট হাউস থেকে তার যৌথ কভারেজ স্থগিত করে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর মামলার খবরের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, তারা তার অর্জনকে ‘তুচ্ছ ও হেয়’ করে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ভুয়া খবরের’ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমগুলো শুধু নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং ‘অজানা সূত্র’ ব্যবহার করে মিথ্যা ও মানহানিকর খবর প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে। তাদের বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রায় নিশ্চিতভাবেই তার প্রশাসন এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘খর্ব’ করা থেকে বিরত রাখে। আদালতগুলো এই বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সরকার তাদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারে না।
সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো নোটিশ বা প্রক্রিয়া ছাড়াই হোয়াইট হাউস আমাদের প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে আমাদের সাংবাদিকদের অনুমোদন বাতিল করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি চ্যালেঞ্জ না করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।
সোমবার ওয়াশিংটনের একটি মার্কিন জেলা আদালতে সংবাদমাধ্যমগুলো মামলা করেছে। মামলায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে দ্রুত রায় দিতে এবং তার সহযোগীদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা থেকে বিরত রাখতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।