দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং মূল আর্থিক অবস্থা তুলে ধরতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঝুঁকিতে থাকা ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা জানতে আন্তর্জাতিকমানের অডিট ফার্মের মাধ্যমে বিশেষ নিরীক্ষা বা ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ’ (একিউআর) পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অডিট কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি সূ্ত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তায় এই নিরীক্ষা চালানো হবে। আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে যোগ্য পরামর্শক ও আন্তর্জাতিক অডিট ফার্মগুলোর কাছ থেকে ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বেশ কিছু ব্যাংকে বড় ধরনের খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি এবং তীব্র তারল্য সংকট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জনসমক্ষে আনাই এই নিরীক্ষার উদ্দেশ্য।
বিশেষ এই নিরীক্ষায় খেলাপি হওয়া বড় অংকের ঋণগুলোর চিত্র খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি, তারল্য সক্ষমতা এবং ঋণ বিতরণের বিপরীতে জামানত হিসেবে রাখা বিভিন্ন বন্ধকী সম্পদের বাজারমূল্য পুনঃযাচাই করবে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকির মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক এবং মেঘনা ব্যাংক।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও ইসলামী ব্যাংকের সংকটের বিষয়টি অনেক দিন ধরেই আলোচনায়। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৯ পয়সা।
ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশ।
গত মে মাসে ১০টি ব্যাংক ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়ার খবর প্রকাশ হয় সংবাদমাধ্যমে। সেখানে ছিল এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউসিবি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংক।