মাটির নিচে দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের পান্না জেলার সাতজন দিনমজুর। পলিমাটি ও বৃষ্টির পানির টানে মাটির উপর ভেসে ওঠা ১৭.৯৬ ক্যারেটের এক বিরল ও মহামূল্যবান হীরা খুঁজে পেয়েছেন তারা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার)।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পান্না জেলার সারোখা গ্রামের বাসিন্দা আখিলেশ পাল ও তার ছয় সহযোগী দুই বছর আগে সরকারি নিয়মে এক খণ্ড জমি ইজারা নিয়ে হীরা খোঁজা শুরু করেন। টানা এক বছর কোনো সাফল্য না পাওয়ায় হতাশা থেকে কাজ বন্ধ রেখে তারা পাশের অন্য একটি জায়গায় অনুসন্ধান চালান। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির পর আখিলেশ পুরানো খনিটি পরিদর্শনে গেলে মাটির উপরিভাগেই দ্যুতি ছড়াতে থাকা চকচকে পাথরটি দেখতে পান।
পান্না জেলার হীরা কর্মকর্তা রবি প্যাটেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেছেন, ১৭.৯৬ ক্যারেটের রত্নটি অত্যন্ত উন্নত মানের বা ‘জেম কোয়ালিটির’ হীরা।
হীরা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পান্নার সুখ্যাতি থাকলেও এর স্থানীয় অর্থনীতি চরম পিছিয়ে রয়েছে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ শ্রমিক বড় ইজারাদারদের অধীনে দৈনিক মজুরিতে কাজ করায় রত্ন পেলেও তার সুফল পান না। তবে আখিলেশ ও তার সহযোগীরা নিজেরাই যৌথভাবে জমি ইজারা নেওয়ায় এই হীরার পুরো অর্থ তারা নিজেরা পাওয়ার অধিকার লাভ করেছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে আয়োজিত ত্রৈমাসিক নিলামে হীরাটি বিক্রির জন্য তোলা হবে। নিলামে প্রাপ্ত চূড়ান্ত মূল্য থেকে ১২ শতাংশ সরকারি রয়্যালটি বা কর কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট ৮৮ শতাংশ অর্থ সাত শ্রমিকের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে।
প্রত্যাশিত এই অর্থ পেয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য কাটার পাশাপাশি নতুন জীবনের পথ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। অখিলেশ জানায়, চরম অর্থকষ্টের কারণে যে সদস্যরা এতদিন বিয়ে করতে পারেননি, এই অর্থ দিয়ে তারা এখন নতুন সংসার গড়ার পরিকল্পনা করছেন।