সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিজের দুই শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে বাবা কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে নিজ সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
নিহত দুই শিশু হলো— মুহাদ্দিছ মিয়া (৬) এবং তার ছোট বোন তুলনা আক্তার (৩)। অভিযুক্ত কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা তাকে সন্দেহভাজন মনে হলে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্তানদের নিয়ে বেড়ানোর উদ্দেশে সিলেটে যান কামরুল। দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি সন্তানদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। এরপর সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ডাবরের কাছের বড়কাপন এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় তুলনাকে এবং দিরাই আসার পথে একটি মেডিকেল কলেজের সামনের হাওরে মুহাদ্দিছকে পানিতে ফেলে দেন।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানরা নিখোঁজ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন কামরুল। তবে তার কথায় ও আচরণে অসঙ্গতি দেখা দিলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনা এবং বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ‘দেখার হাওর’ এলাকা থেকে মুহাদ্দিছের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, আটক কামরুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। চার সন্তানের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়াবিবাদ নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক কলহই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।