
মেটার বিরুদ্ধে কী অভিযোগে মামলা, কেন এটি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় আইনি লড়াই?
অভিযোগগুলো হলো, মেটা তরুণ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এমনভাবে নকশা করেছে এবং এগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে কি না।

শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বন্যহাতির সংখ্যা বাড়লেও সংকুচিত হচ্ছে তাদের বিচরণক্ষেত্র। অবাধে গাছ কাটা, অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন, বন দখল করে বসতি স্থাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা শুকিয়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যভান্ডার কমে গেছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির নেমে আসার ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের অসচেতনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও।
ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হাতি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে কীভাবে মানুষের হতাহত ও সম্পদহানি ঘটছে এবং ঐ একই কারণে কীভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যহাতির জীবনও। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতি মারা পড়ছে।
একসময় ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে সীমান্ত পার হয়ে শেরপুরের বনাঞ্চলে বিচরণ করত বন্যহাতির দল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শেরপুর অঞ্চলে বিচরণকারী হাতির দল এখন আর ভারতের জঙ্গল থেকে থেকে আসা ‘পরিযায়ী’ হাতি নয়। বেশ কিছু হাতি স্থায়ীভাবেই এখানে বসবাস ও বিচরণ করছে। এজন্য বন্যহাতি সুরক্ষায় শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাতি দিবস। আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচারণার এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবারের প্রচারণাটি বন্য পরিবেশে হাতিদের প্রদর্শিত মৌলিক গুণাবলি, যেমন— সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সহনশীলতা এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিজ জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
গারো পাহাড় অঞ্চলে বন্যহাতি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, মানুষ-হাতি সহাবস্থান ও সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদের তিন উপজেলায় আজ বুধবার নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বাড়ছে হাতির সংখ্যা
প্রায় এক দশক আগে আইইউসিএনের এক জরিপে শেরপুরের বনাঞ্চলে ১২০ থেকে ১২৫টি হাতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই জরিপে সব হাতিকেই পরিযায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ এসব হাতি ভারত থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের বনে প্রবেশ করত। এসব হাতিকে ‘এশিয়ান হাতি’ বলা হয়। বর্তমানে এই এশিয়ান হাতিগুলো অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভারত থেকে আসা এসব বন্যহাতি শেরপুরের সীমান্তবর্তী ৮ হাজার ৩৭৬ একরের বনভূমিতে বিচরণ করে। ধান ও কাঁঠালের মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে প্রতি রাতে হাতিগুলো পাল বেঁধে চলে আসে সমতলে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে শেরপুরের বনাঞ্চল ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা পর্যন্ত এলাকা চষে বেড়ায় এরা।

তবে বর্তমানে গারো পাহাড় সীমান্ত অঞ্চলে দিন দিন বন্যহাতির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। বনবিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত ৩ বছরে অন্তত ৫৫টি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে বলে বনবিভাগের অনুমান। ইতিপূর্বে গারো পাহাড়ে ১০০ থেকে ১২০টি বন্যহাতির বিচরণ লক্ষ করা গেলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে বলে বন কর্মকর্তাদের ধারণা।
বন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গারো পাহাড়ে ক্রমাগত প্রজননে বন্যহাতির বংশবিস্তার ঘটছে। বাংলাদেশ থেকে এশিয়ান প্রজাতির বন্যহাতির সংখ্যা দিন দিন বিলুপ্তির পথে বলে হাতি গবেষকগণ উদ্বেগ জানালেও গারো পাহাড়ে আশার আলো দেখছেন বন কর্মকর্তারা। হাতির প্রতিটি পালেই বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা হাতি দেখা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় বনের ভেতর ৩৪টি হাতির একটি পালে ৮ থেকে ১০টি বাচ্চা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
বন বিভাগের দাবি, যদিও ৪ বছর পর পর হাতি শাবকের জন্ম দেয়, কিন্তু গারো পাহাড়ের শেরপুর অঞ্চলে হাতির আবাসস্থল বৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট কমে আসার কারণে দিন দিন এই বন্যপ্রাণীটির সংখ্যা বাড়ছে।
শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জে বেশকিছু গভীর বন থাকায় তিনটি পালে বিভক্ত হয়ে হাতিদের বিচরণ করতে দেখা যায়। এই পালগুলোর প্রতিটিতে ৩০ থেকে ৩৫টি করে হাতি রয়েছে। একেকটি পালে ৭-৮টি করে শুধু শাবকই দেখা যায়। নালিতাবাড়ীর বাতকুচি, দাওধারা কাটাবাড়ি, বুরুঙ্গা, কালাপানি, মধুটিলা এলাকায় বিচরণকারী হাতির পালেও শাবকের দেখা মিলেছে।
১৬ বছরে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে নিহত ৪৭
বনবিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে গত ১৬ বছরে (২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে) মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে ৪৭ জন মানুষের। এছাড়া হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।

একই সময়ে হাতি মারা গেছে ৩৫টি। যেসব বন্যহাতি মারা গেছে, তাদের বেশিরভাগই হয় গুলিবিদ্ধ হয়ে, নয়তো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে।
সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি শ্রীবরদীর বালিজুড়ি পাহাড়ের নেওয়াটিলা এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, গত বছর ৫ জুলাই নালিতাবাড়ীর কাটাবাড়ি পাহাড় এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে মৃত্যু হওয়া ১৫/১৬ বছরের একটি মাদি হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খাদ্য-পানির সংকটে লোকালয়ে হাতি
প্রকৃতিপ্রেমী শেরপুর বার্ড ক্লাবের সভাপতি সুজয় মাকার জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২৭০ কেজি খাবার এবং ২০০ থেকে ৩০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বন ধ্বংস এবং বনের ভেতরের ঝিরিগুলো মরুভূমিতে পরিণত হওয়ায় এবং হাতির চলাচলের আদিম পথগুলো বেদখল হওয়ায় তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত হাতির দল দিগভ্রান্ত হয়ে সমতলে নেমে আসছে।
বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বালিজুরি রেঞ্জের ৮ হাজার ৩৩০ একর বনভূমিতে বর্তমানে প্রায় ১২০টি হাতি রয়েছে, অথচ বনের বর্তমান পরিবেশ এদের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। গত ১০-১৫ বছর ধরে হাতির লোকালয়ে আসার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাতেই বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব।
শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি শেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদির বলেন, হাতি বাঁচলে বাঁচবে গারো পাহাড়। এটা আমাদের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রাণী। সেজন্য হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গারো পাহাড়কে বন্যহাতির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
আব্দুল কাদির ইউএনবিকে বলেন, “লোকালয়ে বন্যহাতি আসা কমাতে হলে সীমান্ত জনপদে ধানসহ যেসব ফসল হাতির পছন্দের খাবার, সেগুলোর আবাদ কমিয়ে মরিচসহ হাতির অপছন্দের খাবার ফলানোর দিকে নজর দিতে হবে।” তিনি মৌমাছি চাষ করে বিকল্প আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
আব্দুল কাদির আরও বলেন, “হাতির চলাচলের পথ ছেড়ে দিয়ে সেসব স্থানে ছোট ছোট পুকুর কিংবা পানি ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে।” হাতিকে উত্যক্ত না করে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে হাতি হত্যা বন্ধ করে হাতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তবেই মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
বন পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ
শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মো. নুরুল করিম জানান, মানুষ-হাতি সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।
নুরুল করিম উল্লেখ করেন, বালিজুরি রেঞ্জের প্রায় ১১৫ হেক্টর বনভূমিতে হাতির উপযোগী খাদ্যসমৃদ্ধ বাগান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বন্যহাতি সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে ৫৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন এবং কিছু এলাকায় ‘সোলার ফেন্সিং’ ও ‘বায়ো ফেন্সিং’ করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট সমাধানের লক্ষ্যে হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে প্রায় ৪০টি কৃত্রিম জলাধার বা হ্রদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া বেদখল হওয়া বনভুমি উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

অভিযোগগুলো হলো, মেটা তরুণ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এমনভাবে নকশা করেছে এবং এগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে কি না।

গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই তাদের বক্তব্য আরও কঠোর করেছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই মঙ্গলবার বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, তখন সেটিকে বিবেচনা করা হচ্ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের লড়াই হিসেবে। বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলে তখন তারকার হাট, আর টেস্ট ক্রিকেটে হাঁটি হাঁটি পা করা বাংলাদেশ লাল বলের ক্রিকেটে শিক্ষানবিশ এক দল। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট দুনিয়ায় তোলপাড়

মক্কার আল-সফা প্রাসাদে গত ৭ আগস্ট তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।