ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রাঁচিতে চলমান আন্দোলন আজ বুধবার ১৯তম দিনে গড়িয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে অনশনরত চার শিক্ষার্থীকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদন এই তথ্য জানিয়েছে।
ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের (আইএএনএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধানসভা অভিমুখে মিছিল, পুলিশের পদক্ষেপ এবং কয়েক দফা আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে দুটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দাবিতেই সমঝোতা হয়নি।
প্রথম দাবি হলো ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচিত প্রার্থীরা বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত। রাজ্য সরকার বলছে, এই পর্যায়ে এসে পরীক্ষা বাতিল করা বাস্তবসম্মত নয়। সরকারের ভাষ্য, আদালতের আদেশে নিয়োগের পথ পরিষ্কার হওয়ার পরই নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় প্রধান দাবি হলো, জেপিএসসি ও জেএসএসসি আয়োজিত বিতর্কিত সব পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআই তদন্ত। রাজ্য সরকার এই দাবিতেও সম্মত হয়নি। এর পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিষয়গুলো তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের এক কোর কমিটির সদস্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অনশনরত দুই বিক্ষোভকারী হাবিবা ও রাহুল ক্রান্তি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাবিবাকে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর ক্রান্তিকে ৭ আগস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনশনরত আরও দুই বিক্ষোভকারী দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো ও মহেন্দ্র প্রতাপ একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সদর হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, “চার শিক্ষার্থীরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তাদের শারীরিক অবস্থার পর্যায়ক্রমিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের অনশন করে জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে, আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে।”