বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিজ বাড়িতে ‘বোমা’ বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হনুফা বেগম (৪৫) মারা গেছেন। টানা ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে আজ বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হনুফা বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট (সোমবার) সকাল ৬টার দিকে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তাদের মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সহায়তায় দগ্ধদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসায় মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগম মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহত হনুফার জামাতা সুজনের বরাত দিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, আহতদের সব চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন বহন করছে। এছাড়া মারা যাওয়া হনুফা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে বরিশালে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় খরচও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ বলেন, ‘‘ঘটনার পর শেবাচিম হাসপাতালে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আমরাই দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। বাকি দুজন সুস্থ হলেও হনুফা বেগমের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। এই পরিবারের পাশে প্রশাসন সব সময় থাকবে।’’