সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠ থেকে উদ্ধার করা প্রেশার কুকার দিয়ে তৈরি একটি ‘শক্তিশালী’ বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ বুধবার বিকেলে দীর্ঘ চার ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে ডিএমপির বিশেষায়িত দলটি বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এর আগে ভোররাতে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল স্কচটেপে পেঁচানো বোমাটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাধাপুরের ঘোড়া মসজিদ মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, রাতে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি ফেলে রেখে চলে যায়। সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ড্রামটি খুলে তার ভেতরে কয়েকটি পোশাক, একটি পবিত্র কোরআন এবং প্রেশার কুকারটি দেখতে পান। পরে কুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন জানান, প্রেশার কুকারটি পর্যবেক্ষণ করে ভেতরে বোমা থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা বিকেলে নিয়ন্ত্রিত পন্থায় সেটি নিষ্ক্রিয় করেন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকার ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একইভাবে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করা হয়, যা পরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ককটেলসহ আরিফ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট স্থানীয় আব্দুল জলিলের চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালায়।
অভিযানে আরও নয়টি বোমাসদৃশ বস্তু, বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন লিফলেট উদ্ধার করা হয়। ভবনমালিক আব্দুল জলিল ও তার মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী পরিচয়ে এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, শ্যামপুর এলাকা থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। সাধাপুরের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও পুলিশি অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।