ভারতের নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার সম্মেলনের শেষ দিনে জোটের মূল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতারাও অধিবেশনে যোগ দেন। এবারের সম্মেলনে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’। ৪৫ পৃষ্ঠার যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস কার্যক্রমে অংশীদার দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে দেওয়া বক্তব্যে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে বিশ্ব উন্নয়ন ও সবার সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থায় বাধা এবং জলবায়ু সংকট এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে ক্রমেই বেশি প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি’। যার অর্থ নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বা ঘুরে দাঁড়ানো এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা বাড়ানো।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ বলেছে, এবারের সম্মেলনে ব্রিকস বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সংস্কার, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে।
জোটের নেতারা একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন। জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া দেওয়া নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেছেন তারা। এ ছাড়া বাড়তে থাকা শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার সমালোচনা করে ব্রিকস বলেছে, এগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তসীমান্ত অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পক্ষেও সমর্থন জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।