Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মিয়ানমারে আবার বাড়ছে আফিমের চাষ, কিন্তু কার স্বার্থে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২৮
মিয়ানমারে আবার বাড়ছে আফিমের চাষ, কিন্তু কার স্বার্থে?
মিয়ানমারে আফিমের খেত। ছবি: রয়টার্স

লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তকে জুড়ে দেওয়া পাহাড়ি বনাঞ্চল ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ একসময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল। মাদক ব্যবসায়ীরা আফিমের নির্যাসকে বলত ‘কালো সোনা’। এই নির্যাসকেই পরিশোধন করে হেরোইন তৈরি করা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৯০-এর দশকে এই অঞ্চলেই বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আফিম গাছের চাষ হতো। পরে সরকারি অভিযানসহ নানা কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০০৬ সাল আসতে আসতে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, বিশ্বে অবৈধভাবে যত আফিম উৎপাদিত হতো, তাতে এই অঞ্চলের অবদান নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ শতাংশের আশপাশে।

তবে মিয়ানমারে আবারও আফিমের উৎপাদন বেড়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) বলছে, মিয়ানমারই এখন আবার বিশ্বের অবৈধ আফিমের সবচেয়ে বড় পরিচিত উৎস। মিয়ানমারের আফিমের সবচেয়ে বড় অংশের চাষ হয় দেশটির পূর্বাঞ্চলের শান রাজ্যে।

মিয়ানমারে আফিমের ব্যবসা আবার বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্য অনেক দেশের পরিস্থিতিরও ভূমিকা আছে। আফগানিস্তানের কথাই ধরুন, এই দেশটিও আফিম উৎপাদনের জন্য পরিচিত। দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তালেবান ১৯৯০-এর দশক থেকে আফিম নিয়ে একেক সময়ে একেক ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে– একবার তো আফিম চাষকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছিল!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে ২০২১ সালে আফগানিস্তানের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তালেবান আফিম চাষ নিষিদ্ধ করে দেয়। এতে লাভ হয়েছে মিয়ানমারের আফিম চাষীদের, তারা নিজেদের উৎপাদিত আফিমের জন্য দামটা বেশি পাচ্ছেন।

তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতও দেশটিতে আফিমের ব্যবসা বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ। ইউএনওডিসির জেরেমি ডগলাস বলেন, “এখানে মূল সমস্যাটা হচ্ছে দারিদ্র।” পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার। দেশটির অর্ধেক মানুষের বাস এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে– ২০১৭ সালে এই হার ছিল অর্ধেক।

এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে আফিম চাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে। ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে আফিম চাষের জমির পরিমাণ গত বছর ১৭ শতাংশ বেড়েছে– গত ১০ বছরে এত জমিতে আফিম চাষ হয়নি।

মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চিন রাজ্যে আফিমের চাষ বাড়ছে। এই রাজ্যটি সীমানা ভাগাভাগি করছে ভারতের মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে। গত বছর পর্যন্ত মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী থাকা বীরেন সিং বলেছেন, “গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল ভারতের দিকে সরে আসছে।” তিনি এই সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

থাইল্যান্ডও চিন্তিত। মাদক পাচারকারীরা মাদক পরিবহনের জন্য থাইল্যান্ডের উন্নত সড়কব্যবস্থা ব্যবহার করে। দেশটির কয়েকটি সীমান্ত শহরে গত পাঁচ বছরে মাদক ব্যবহারের হার তিন গুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে আফিম উৎপাদন বেড়ে যাওয়াও এর একটি কারণ।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া মিন অং হ্লাইং গত আগস্টে ব্যাংককে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। মিয়ানমারে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক। মাদক সমস্যা মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথভাবে আরও কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

স্পেনের ড্রাগ কালচার আসলে কী?Drag King

থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর সঙ্গে কাজ করছেন। তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহারে সহায়তা করছেন, যেসব পদ্ধতি বহু বছর আগে থাইল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকা থেকে আফিমের চাষ কমাতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর মধ্যে অন্যতম হলো বিকল্প ফসল চাষ। এই পদ্ধতিতে কৃষকদের আফিমের বদলে ফল বা এমন কোনো লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং এ জন্য তাদের অর্থও দেওয়া হয়। মিয়ানমারে ইউএনওডিসি শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগির আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কৃষকদের কফি চাষে সহায়তা করছে। জেরেমি ডগলাস বলেন, জাতিসংঘ যেখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। তবে বড় পরিসরে এই প্রকল্প চালানো বড় চ্যালেঞ্জ।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার আফিমের ব্যবসা বন্ধ করতে আসলে কতটা আগ্রহী, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধেই আফিমের ব্যবসা থেকে লাভ করার অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণও সামরিক সরকার ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। এসব গোষ্ঠীর কেউ সামরিক সরকারের সঙ্গে আছে, আবার কেউ তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। ফলে আফিম চাষ পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

আর কৃষকদের দিক থেকে দেখলে, অনেক কৃষকের চোখে অন্যান্য ফসলের চেয়ে আফিম চাষ আয় করার নিশ্চয়তা বেশি। এক হেক্টর জমিতে শুকনো আফিম চাষ করে কফির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি আয় করা যায়।

১৯৫৮ সালে থাইল্যান্ড আফিমের ব্যবসা নিষিদ্ধ করার পর দেশটির পাহাড়ি এলাকা থেকে আফিমের চাষ সরাতে প্রায় ৫০ বছর লেগেছিল। তখন থাইল্যান্ডে শান্তি ছিল, অর্থও ছিল। মিয়ানমারে এর কোনোটিই নেই।

লেখাটি দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত

বিষয়: মিয়ানমারথাইল্যান্ডমাদকচাষআফিমজাতিসংঘ
সর্বশেষ
  • ১

    প্লাটিলেট আসলে কেন কমে?

  • ২

    ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন বরিস জনসন

  • ৩

    যে বার্তা দিয়ে শেষ হলো ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন

  • ৪

    মিয়ানমারে আবার বাড়ছে আফিমের চাষ, কিন্তু কার স্বার্থে?

  • ৫

    ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শত শত মামলা করে বসে আছে’

সম্পর্কিত
  • ব্রিকস কি আসলেই পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে?

    ব্রিকস কি আসলেই পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে?

    সামগ্রিকভাবে ব্রিকস পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং এটি বিভিন্ন দেশের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম। ব্রিকসের নিজস্ব কোনো অভিন্ন মুদ্রা নেই, অভিন্ন শুল্কব্যবস্থা নেই এবং সদস্যদের মধ্যে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও নেই।

  • দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

    দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

    সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার যে ধারা তৈরি হয়েছে, রূপালী ব্যাংকেও তার অন্যথা হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী সানাউল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেই তিনি পদ ছাড়েন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চেয়ারম্যানের

  • এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সম্মেলন ঘিরে ভারতের এবারের প্রকাশ্য আয়োজন তিন বছর আগে জি-২০ সম্মেলনের সময়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নয়। আয়োজন সাদামাটা হলেও সম্মেলনটির গুরুত্ব কমে যায়নি।

  • হুতিরা কি লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে?

    হুতিরা কি লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে?

    গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে তা তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও হুতিদের বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন থেকেও সরাসরি সহায়তা