সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নতুন অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।
তানজীর আহমেদ বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করা হয়েছে।”
দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, “বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ গড়ে তোলা এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া আসিফ মাহমুদের বাবা, তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষের লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “অভিযোগটি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর কমিশন সেটিকে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনারা জানেন, তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এই অভিযোগটিও ওই চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘চরিত্রহনন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।