টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে পৃথকভাবে ইজতেমা আয়োজনে আলাদা তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাবলিগ জামাতের মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। একই সঙ্গে বিকল্প কোনো ভেন্যুতে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাদপন্থীদের প্রতিনিধিদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে সাদপন্থীরা বলেন, “মাওলানা সাদের অনুসারীদের আয়োজনে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ইজতেমার তারিখ অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে।”
তারা বলেন, “টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান সরকারি মালিকানাধীন। তাই তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষেরই সেখানে ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ থাকা উচিত।”
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের সম্পূর্ণ মালিকানা সরকারের। কোনোভাবেই এটি জুবায়েরপন্থীদের মালিকানাধীন নয়। মাওলানা জুবায়েরুল হাসানের অনুসারীরা বছরে একাধিকবার ওই ময়দানে ইজতেমা আয়োজন করলেও তাদের আপত্তি নেই। তবে সাদপন্থীদেরও একই ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে। বিকল্প কোনো ভেন্যু কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বক্তারা দাবি করেন, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি সরকারি চিঠিতে সাদপন্থীদের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ময়দান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সময় ভবিষ্যতে ইজতেমা আয়োজন থেকে সাদপন্থীদের বিরত রাখার বিষয়ে কোনো অঙ্গীকারনামা বা বন্ডে স্বাক্ষর করা হয়নি।
সাদপন্থীদের এই দাবি আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেওয়ার পর। তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীতে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি। একই ভেন্যুতে সাদপন্থীদের পৃথক ইজতেমা আয়োজনের একটি প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে।
সাদপন্থীরা আরও দাবি করেন, সরকারকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে দেশের সর্বত্র তাবলিগের উভয়পক্ষ কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। পাশাপাশি কাকরাইল মসজিদ নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।