দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে ‘রাজনৈতিক হয়রানির’ অংশ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা’ দাবি করে ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্নীতি খুঁজে বের করার বদলে তাকে ‘রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং মিডিয়া ট্রায়াল’ করার উদ্দেশ্যেই এ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকে সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং কমিশনের মুখপাত্রের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যেসব অভিযোগ মানুষের সামনে আনা হচ্ছে, সবগুলো অভিযোগই মিথ্যা। এই অনুসন্ধান আসলে অনুসন্ধান না। এই অনুসন্ধান হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি।”
ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, ভয় দেখানো এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখার যে প্রক্রিয়া ছিল, তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্দিষ্ট ওই ঘটনায় অনুসন্ধান করতে হলে দুদকের বর্তমান সরকারের সময়ের বিষয়গুলো দেখা উচিত বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমি একদম ডকুমেন্ট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি। এই স্পেসিফিক ঘটনাটা ঘটেছে বিএনপি সরকারের সময়ে।”
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস পরের ঘটনা নিয়ে তাকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ওই সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসেরও বেশি আগে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। আসিফ বলেন, “আমি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পদত্যাগপত্র দিয়েছি এবং ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সেটা গৃহীত হয়েছে।”
দুদকের সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখপাত্র। তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, “সেই দুদক আবারও রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে।”
তার অভিযোগ, অনুসন্ধান শুরুর মতো যথেষ্ট কারণও ছিল না। পদোন্নতির তারিখগুলো পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা বলে দাবি করেন তিনি।
দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রথমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে মুখপাত্র প্রকাশ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তা প্রত্যাহার করেন।
এতে তার মানহানি হয়েছে দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবাদমাধ্যমে তার দুর্নীতির ‘প্রমাণ’ ও ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারের দায়িত্বে থাকার সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণেও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগ উঠছে বলে মনে করেন আসিফ মাহমুদ।
এসব সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, “অনেকগুলো উদ্যোগ নিতে গিয়ে অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির আমার উপরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”
এখন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারের মানহানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদকের মুখপাত্রকে ‘আলটিমেটাম’ দেওয়ার বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন আসিফ মাহমুদ। তার বক্তব্য, ওই কথাকে দুদককে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।