দেশে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশনড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিক্যালের ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে নতুন আমদানি নীতি পুনর্বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরনো ও মানসম্মত রিকন্ডিশনড ইভি আমদানির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বারভিডা নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আবদুল হক বলেন, “গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশনড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তির মোটরযানের সুবিধা থেকে সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নতুন ইভি গাড়ির বাজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন- যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, জর্জিয়া, কেনিয়া ও পাকিস্তানে সুনির্দিষ্ট শর্ত ও মান বজায় রেখে ব্যবহৃত ইভি আমদানি করা হলেও বাংলাদেশে হুট করে এ নিষেধাজ্ঞা খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের যে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে রিকন্ডিশনড ইভি আমদানির বিকল্প নেই। তারা প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৫ বছর পুরনো ইভি আমদানি, ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণ, নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও চার্জিং অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রিকন্ডিশনড মোটরযান খাতের ব্যবসায়ীদের পেশা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় মানববন্ধন ও শো-রুম বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করবে বারভিডা।
এ সময় বারভিডা মহাসচিব রিয়াজ রহমান, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু, মো. হাবিব উল্লাহ ডনসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।