সিলেট নগরীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আজ বুধবার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। তিনি জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিতে পুলিশ কাজ করছে। ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের আটকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটককৃতরা হলেন সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই মেয়েকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নগরীর উপশহরের ডি ব্লকের মসজিদ মার্কেট এলাকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
এ ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মঙ্গলবার তাকে চুরির অভিযোগে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
শিকল বেঁধে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, যারা ওই কিশোরীকে এভাবে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করেছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে শিকল পরানো, মারধর করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান-হয়রানি করার অধিকার কারও নেই জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদিপ্ত অর্জুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কেবল মানবিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, সমাজে ভয়াবহ বার্তাও দেয়।