দেশে বাংলা কিউআর বা কুইক রেসপন্স কোড ভিত্তিক লেনদেনের আওতা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কে কত বাংলা কিউআর মার্চেন্ট দিতে পারে। আর গত সপ্তাহে নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে শীর্ষে অবস্থান করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি এক সপ্তাহেই নতুন করে ৫০ হাজার ৩০৩টি বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে তাদের মার্চেন্টকে।
একই সময়ে শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংক যুক্ত করেছে ৪৫ হাজার ৬৭৩টি কিউআর মার্চেন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গত ২৫ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে সারাদেশে নতুন করে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি কিউআর সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক ও এমএফএসসহ ৩৭টি যুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট মার্চেন্ট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টিতে, যা এক সপ্তাহ আগে ২৫ জুলাই ছিল ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪১টি।
যদিও সারাদেশে মোট মার্চেন্ট সংখ্যার হিসেবে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ এখনও শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে নতুন করে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপনের দিক থেকে অন্যান্য ব্যাংকগুলো এখন দ্রুত এগিয়ে আসছে।
সপ্তাহজুড়ে মার্চেন্ট সম্প্রসারণের শীর্ষ তালিকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জনতা ব্যাংক ১৭ হাজার ১৪৪টি, রূপালী ব্যাংক ১৪ হাজার ৮৬টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১১ হাজার ৫৮৩টি, অগ্রণী ব্যাংক ৮ হাজার ২২৮টি, সোনালী ব্যাংক ৬ হাজার ৮২২টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৫ হাজার ২৬৩টি, ব্র্যাক ব্যাংক ৪ হাজার ১৪০টি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট টালিপে ৯৪৫টি নতুন কিউআর যুক্ত করেছে।
তালিকার পরবর্তী ধাপে তুলনামূলক মাঝারি পরিসরে নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংক ৭২৯টি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ৫৯৯টি, ঢাকা ব্যাংক ৪২৩টি, এনআরবিসি ব্যাংক ৪০১টি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩৯৯টি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৩৭৬টি, ব্যাংক এশিয়া ৩৫০টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৩৩৫টি, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক ২৯০টি এবং নগদ ২৫০টি মার্চেন্টকে বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে।একই সময়ে অন্যান্য ওয়ালেট ও ব্যাংকের মধ্যে পাঠাও পে ২৩৩টি, ওকে ওয়ালেট ১৭৮টি, এবি ব্যাংক ১৫৯টি, ইস্টার্ন ব্যাংক ১৪৭টি, উপায় ১১৯টি এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ১০৫টি কিউআর দিয়েছে।
এছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক ৭৫টি, সফটওয়্যার শপ ৬৪টি, সিটি ব্যাংক ৫৩টি, এনআরবি ব্যাংক ৫০টি, ডিজি পে সার্ভিসেস ৩৭টি, প্রাইম ব্যাংক ১৭টি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ ৯টি এবং মধুমতি ব্যাংক ৭টি নতুন মার্চেন্ট যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ সময়ে বিকাশ, সেবা ফিনটেক এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া নতুন কোনো মার্চেন্ট যুক্ত করতে পারেনি।
মার্চেন্ট সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিকভাবে বাংলা কিউআর ভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও ব্যাপক বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের গত জুলাই মাসে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড়ে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে যা মাসের হিসাবে মোট দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।
অথচ চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ২১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের প্রথম ৭ মাসেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে।
এর আগের মাসগুলোতে দেখা যায়, জুনে ৮৪৫ কোটি টাকা, মে মাসে ৪৭৯ কোটি টাকা, এপ্রিলে ১৯৯ কোটি টাকা, মার্চে ২২৯ কোটি টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।
সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে নগদ টাকা ছাড়া বা ক্যাশলেস লেনদেনের সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় মাধ্যম হিসেবে বাংলা কিউআরের এই দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা দেশের সার্বিক আর্থিক খাতকে আধুনিকায়নে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।