রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত আবাসিক হল ছাত্র হল-১ এ দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর হল শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। তবে উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদনটি গ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের লিফট সচল করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে বলা হয়, নবনির্মিত ১০ তলা হল (ছাত্র হল-১)-এ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও লিফট এখনো চালু করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য দিনে একাধিকবার হেঁটে নিচে নামা এবং আবার ওপরে ওঠা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
দাবির বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল। তিনি জানান, নিজে দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই হলটিতে লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি হল-সংক্রান্ত অন্যান্য অসুবিধার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান।
ফাহিম রহমান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, লিফট চালুর বিষয়ে স্যারদের জানালে তারা শুধু একই উত্তর দেন যে ঠিকাদার কাজ করে না। কিন্তু ছেলেদের হল ২ ও ১ একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। তাহলে হল-২ এ লিফট চালু হলেও আমাদের হলে কেন হলো না? এটা অবশ্যই রুয়েট প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
হল-সংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরে ছাত্র হল-১-এর কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনা করে প্রশাসন অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করে প্রায় ৮ মাস আগে তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে। ফলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীরা হলটিতে বসবাস শুরু করেন। তবে হলের অন্যান্য সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু হলেও লিফট এখনো চালু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও লিফটের কাজ সম্পন্ন হয়নি।