অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে রাজধানীর চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’। গতকাল শনিবার এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টা দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ।
সিআইআইডি জানায়, ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চারটি পৃথক দল গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, আরএ ডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্তোরাঁ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ এবং ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা ও ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুত করা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ, পণ্যের উৎস, আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করেন। পাশাপাশি এসব পণ্য অনুমোদিত নিয়মে সংরক্ষণ ও নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অ্যালকোহলের বৈধ উৎস এবং এর বিপরীতে পরিশোধ করা রাজস্বের হিসাব যাচাই করা। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযানের আওতায় থাকা ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নূর ইসলাম আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর। এর আগে শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের গুলশানের চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছিল সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১-এর যৌথ দল।
ওই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ওয়্যারহাউস ছিল দুটি। তবে সরেজমিনে মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়ার পর চারটিই সিলগালা করা হয়। সিআইআইডি বলছে, অনুমোদনের বাইরে থাকা দুটি ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল মজুতের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
টস বন্ড বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে সরবরাহের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালানোর বিষয়ে এনবিআর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অ্যালকোহল মজুতের পরিমাণ, বৈধ উৎস, আমদানি ও ক্রয়ের নথি এবং শুল্ক-ভ্যাট-কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই প্রক্রিয়া চলছে অভিযানে থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠানেও।
সিআইআইডি জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে কোনো অনিয়ম, অবৈধ উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ কিংবা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযান চলাকালে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হবে।