প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এখন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।
জাহেদ বলেন, ঢাকার বাসিন্দারা সম্প্রতি যে মাত্রায় লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা অতীতে রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক ছিল।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আগে গ্রামীণ এলাকায় বেশি লোডশেডিং দিয়ে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো। তবে বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই সংকটের কষ্ট সবাই মিলে ভাগ করে নেবে।” তিনি বলেন “একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশি পাওয়া উচিত এ কারণে নয় যে সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকেন, বরং সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীভূত থাকে বলে। তাই পলিসিগত দিক থেকে সেদিকে একটি প্রবণতা থাকে। তবে সরকার যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সবাই লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করবে, তাই এখন আমরা ঢাকায়ও লোডশেডিং দেখতে পাচ্ছি।”
উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি করা সত্ত্বেও সেই সময়গুলোতে বাস্তবে কী পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছে, তার প্রকৃত তথ্য সরকার প্রকাশ করবে।
জাহেদ বলেন, “বিষয়টি আপনারা একটু খতিয়ে দেখবেন। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে আমি আপনাদের সেই তথ্য দিতে পারব। আমি এটি নিয়ে কাজ করছি—তখন আসলে কতটুকু এবং কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।”
তিনি দাবি করেন, ওই সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের একটি বড় অংশ চাপিয়ে দেওয়া হতো গ্রাম ও দুর্গম এলাকাগুলোর ওপর। উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সেই ধারা থেকে সরে এসেছি। আশা করি মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারবে।”
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের দ্রুত ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যার ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।”
জাহেদ জানান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) আওতাধীন এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন না থাকতে হয়।