রাতের খাবারে গরম বিরিয়ানি দেখলে কার না মন ভালো হয়? কিন্তু ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিলুভুর গ্রামের এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর জন্য সেই প্রিয় খাবারটিই হয়ে দাঁড়াল জীবনের শেষ খাবার। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য আর সাজানো সংসার নিমিষেই শেষ হয়ে গেল লালসা আর বিশ্বাসঘাতকতার করাল গ্রাসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে বিবাহিত ওই দম্পতির সংসারে বিবাদের কোনো প্রকাশ্য কারণ ছিল না। কিন্তু পর্দার আড়ালে স্ত্রী জড়িয়ে পড়েছিলেন তার এক সহকর্মীর সাথে অবৈধ প্রেমে। নিজেদের সম্পর্কের পথে স্বামীকে ‘কাঁটা’ হিসেবে দেখতেন তারা। আর সেই পথ পরিষ্কার করতেই তারা হাত মেলান এক নৃশংস হত্যা পরিকল্পনায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, গত ১৮ জানুয়ারি ছিল সেই অভিশপ্ত রাত। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন ক্লান্ত স্বামী। তার জন্য স্ত্রী পরম মমতায় বেড়ে দেন সুগন্ধি বিরিয়ানি। কিন্তু সেই খাবারের ভেতরেই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ২০টি ঘুমের ওষুধ। বিরিয়ানি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি।
রাত যখন আনুমানিক সাড়ে ১১টা, তখন বাড়ির ভেতর ঢোকেন ওত পেতে থাকা ওই প্রেমিক। এরপর শুরু হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। প্রেমিক ওই ব্যবসায়ীর বুকের ওপর চেপে বসেন এবং স্ত্রী নিজের হাতে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করেন স্বামীর। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেমিক পালিয়ে গেলেও, সারারাত লাশের পাশেই বসে থাকেন ঘাতক স্ত্রী।
পরদিন সকালে ওই নারী কান্নাকাটি শুরু করেন এবং দাবি করেন যে, তার স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু অপরাধ কখনো চাপা থাকে না। শেষ রক্ষা হয়নি তারও। সৎকারের আগে আত্মীয়রা লক্ষ্য করেন নিহতের কানের পাশে জমাট বাঁধা রক্ত এবং শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন।
পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠালে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে, মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বরং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে স্ত্রীর ‘পরকীয়ার কাহিনী’। পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন ওই নারী এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। বর্তমানে পুলিশ ওই নারী এবং তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে।