পাকিস্তানের বিমান হামলায় আজ সোমবার আফগানিস্তানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রায় তিন মাসের শান্তির পর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আফগান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আফগান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হামলায় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ বাড়তে থাকায় সাবেক মিত্র দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, কাবুল পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর বছরের প্রথমার্ধে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে শত শত মানুষ নিহত হয়।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের বক্তব্য, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
সোমবারের বিমান হামলার আগে শুক্রবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় একটি পুলিশ স্থাপনায় ইসলামপন্থী জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন।
এদিকে আফগান সীমান্তবর্তী পার্শ্ববর্তী হাঙ্গু জেলায় গতকাল রোববার দুই পক্ষের পৃথক গোলাগুলিতে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় পাকিস্তানি সেনা এবং আট জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সোমবারের হামলায় কুনার প্রদেশের অন্তত একটি বাড়িতে আঘাত লাগে। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়।
তিনি বলেন, “পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এতে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
প্রাণঘাতী হামলা
এর আগে গত জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, তাদের বাহিনী এসব ড্রোন প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক ঘটনা ঘটে গত মার্চে। সে সময় কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। আফগান তালেবান জানিয়েছিল, হামলায় একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, তারা “সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তা অবকাঠামো” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বড় একটি বিমানবাহিনী রয়েছে। দেশটির ৪২২টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে।
আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই। তবে দেশটির অন্তত ছয়টি উড়োজাহাজ ও ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা যায়। পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে অতীতে ড্রোনও ব্যবহার করেছে আফগানিস্তান।