ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী আজ শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ পেরিমে পৌঁছে গেছে। ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের বরাত সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছে।
ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়ে গেছে। সেই বাব আল-মান্দেব প্রণালির সবচেয়ে সরু পয়েন্টেই অবস্থিত দ্বীপ পেরিমে হুতিদের পৌঁছে যাওয়া বোঝাচ্ছে, এই প্রণালি আরও বেশি করে হুতিদের দখলে চলে যাচ্ছে।
এর আগে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, পেরিম থেকে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ধুবাবের দখলও নিয়ে নিয়েছে বলে তখন জানায় ওই দুই সূত্র। ধুবাব শহরটি উপকূল থেকে পেরিম দ্বীপের দিকে মুখ করে থাকা একটি অঞ্চল।
আরব উপদ্বীপে হরমুজ প্রণালির উল্টো দিকে থাকা বাব আল-মান্দেব যদি পুরোপুরি হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে চলে যায়–যে গোষ্ঠীটি ইরান সমর্থিত বলে মনে করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে কৌশলগত একটি বিশাল সুবিধা পেয়ে যাবে ইরান। কারণ, সে ক্ষেত্রে দুই পাশের দুই বাণিজ্যিক রুট দিয়েই পণ্য–বিশেষ করে তেল–সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারবে ইরান, যা তেলের বাজারদর আরও বাড়িয়ে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে লোহিত সাগরে থাকা বাব আল-মান্দেব রুটের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
দুই দিক থেকেই চাপে পড়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা বোঝা যায় শুক্রবার ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রতিবেদনে। তারা বলেছে, আগস্টে যেখানে সৌদি আরবের ক্রুড অয়েল সরবরাহের পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল, সেটা এখন নেমে এসেছে ২৩ লাখ ব্যারেলে–যা গত তিন দশকেরও বেশি সময়ে সর্বনিম্ন।
শুধু দুই দিকের দুই প্রণালিকে ঘিরেই সৌদি আরব ঝামেলায় পড়েছে–ব্যাপারটা এমন নয়। বৃহস্পতিবার স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপলাইনের কাছাকাছি অঞ্চলে ধোঁয়া দেখা যায়। রয়টার্স ছবিগুলো সত্যি বলে নিশ্চিত করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর এই পাইপলাইন দিয়েই সৌদি আরব তাদের তেল হরমুজের দিকের বন্দর থেকে বাব আল-মান্দেবের দিকের বন্দরে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছিল।
সৌদি আরব অবশ্য এখন পর্যন্ত ওই ধোঁয়া দেখা যাওয়ার কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
তবে হুতিদের এই দাপট ঠেকানোর ক্ষেত্রে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমর্থনও পাচ্ছে না সৌদি আরব। ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা সৌদি আরব চালিয়ে আসছে ঠিকই। তবে এই সপ্তাহে হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে অঞ্চলগুলো দখল করেছে, সেখানে সৌদিরা হামলা চালাতে পারেনি।
এখন হুতিদের এগোতে দেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার কল করেছেন এবং হুতিদের ওপর হামলা চালাতে আহ্বান জানান। ট্রাম্প প্রশাসনের দুই সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য জানিয়ে এ খবর লিখেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তবে মার্কিন সূত্রগুলো এ-ও জানিয়েছে, ট্রাম্প এই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন। আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন ওই দুই সূত্র।