সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ আগামী চার মাসের মধ্যে তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার জি-৭ নেতারা এক জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে নিজেদের জ্বালানি মজুত ছাড়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসন বলেছিল, ইউরোপ এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
এরপরই জি-৭ নেতাদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো। একই সঙ্গে এই দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
আগামী নভেম্বর মাসে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানি তেল ছাড় নিয়ে মরিয়া হোয়াইট হাইস। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের যে দাম বেড়েছে, তার লাগাম নির্বাচনের আগেই টানতে চাইছেন ট্রাম্প।
জি-৭ এর ডিজেল ছাড়ের ঘোষণার পর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছেন, “ইউরোপ তাদের প্রচুর পরিমাণে মজুত করা ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।”
এর আগে গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জি-৭ জোটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমে চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল সরবরাহ অবিলম্বে শুরু করতে সমন্বিত পদক্ষেপে নিতে তারা রাজি হয়েছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী ২০ দিনের মধ্যে জি-৭ দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
তবে এই ১০ কোটি ব্যারেলের মধ্যে কতটা অপরিশোধিত তেল এবং কতটা ডিজেল থাকবে, তার বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আইইএর আওতায় একটি বৈঠক হবে।
ট্রাম্প এমন সময়ে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছেন, যখন রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। যা তার রাজনৈতিক জীবনে সর্বনিম্ন।